পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকা

পেঁয়াজের বাজারে চলছে রীতিমতো নৈরাজ্য। সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকায় এর অপব্যবহার করছেন সুযোগসন্ধানী কিছু ব্যবসায়ী। এখন কেজিপ্রতি পেঁয়াজের জন্য গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, যা এক দিন আগেও ছিল ১৭০ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি পেঁয়াজের জন্য গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, যা এক দিন আগেও ছিল ১৭০ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। দেশি বা আমদানি—সব ধরনের পেঁয়াজের দামেই ঊর্ধ্বগতি।

পাইকারি বাজারে মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর মিয়ানমার থেকে আনা ভালো মানের পেঁয়াজের দাম ছুঁয়েছে ২০০ টাকা কেজি। আর মিয়ানমার থেকে আনা মাঝারি মানের পেঁয়াজের দর ১৬০ টাকা কেজি। বেশ কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের পেঁয়াজ আমদানির কথা থাকলেও এখনো তা এসে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণে পেঁয়াজের দাম না কমে বাড়ছে। এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, ইচ্ছেমতো দাম রাখছেন বিক্রিতারা। তারা বলছেন, দামের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস তাদের।

রাজধানীর মাটিকাটা বাজারের এক ক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে কয়েকটা দোকানে ঘুরি। সবাই বলছে একদাম ২০০ টাকা। তিনি আফসোস করে বলেন, তিন দিন আগে ১৩৫ টাকা কেজিতে দেড় কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলাম। ভাবছিলাম দাম কমবে। এখন দেখছি দিন দিন বাড়ছেই।

ভাটারা এলাকার বাসিন্দা আজাদ হোসেন জানান, বাড়িতে একটিও পেঁয়াজ নেই। সকালে পেঁয়াজ কিনতে বাসার পাশের দোকানে গিয়ে শোনেন এক কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকা। পরে এক কেজি পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।

শুধু রাজধানীতে নয়, বাইরেও পেঁয়াজের বাজারে আগুন। অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, যশোরের অভয়নগরে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ২২০ টাকায়। গত মঙ্গলবার যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ১৪০ টাকা, বুধবার তা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা। আজ বৃহস্পতিবার সেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ২২০ টাকায়।

হঠাৎ করে উপজেলার সবগুলো বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার এবং মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার প্রধান বাজার নওয়াপাড়াসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতারা সরকারসহ স্থানীয় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলার বুইকরা গ্রামের তৌফিক ইসলাম বলেন, বুধবার ১৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি, আজ বৃহস্পতিবার সেই পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। বাজারের অসংখ্য ক্রেতাদের অভিযোগ বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের খেয়াল-খুশিমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। দ্রত সময়ের মধ্যে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

নওয়াপাড়া বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শেখ আবদুল্লাহ জানান, পাইকারি দোকানে গিয়ে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা চাওয়ায় না কিনে ফিরে এসেছি। তিনি স্বীকার করেন গত দুই দিন আগে ১২০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে তা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

নওয়াপাড়া বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফরিদ সরদার জানান, পাইকারি মোকামে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায়, পেঁয়াজ কেনা সম্ভব হয়নি।

আরেক আড়তদার বাচ্চু মিয়া বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে পেঁয়াজ মজুদ নেই। তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, আজ সকালেই বাচ্চু মিয়ার আড়ত থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। তার গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুসেইন খান বলেন, আমি বগুড়া জেলায় সরকারি ট্রেনিংয়ে আছি। ট্রেনিং থেকে ফিরে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।