‘পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু’ নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১৫

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে শামসুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাদক কারবারি সন্দেহে রাতভর আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী থানা ঘেরাও করলে পুলিশ ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ২৫ জন। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আজ বুধবার সকালে ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে আসামির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সেখানে আসলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামসুল হক পীরগঞ্জের শান্তিপুর মির্জাপুর এলাকার মৃত মফিজউদ্দিনের ছেলে।

নিহত শামসুলের মেয়ে অভিযোগ করেছেন, তার বাবা শামসুল ছাগল কেনা-বেচা করেন। তিনি বৃদ্ধ মানুষ, জীবনে কোনো দিন তিনি চোলাই মদের ব্যবসা করেননি। ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আমিনুল ও পুলিশের সোর্স জিয়া তার বাবাকে আটক করে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে চোলাই মদের কারবারি বানিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে সারারাত নির্যাতন করে হত্যা করেছে। ঘটনাটিকে ধামা চাপা দেওয়ার জন্য আত্মহত্যার কথা বলছে পুলিশ।

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেশ চন্দ্র জানান, শামসুল ইসলাম একজন মাদক কারবারি। ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ তাকে ১৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক করেছে। সে ফাঁড়িতে আজ বুধবার সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ সাংবাদিকদের জানান, শামসুল হককে চোলাইমদসহ মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার সকাল পৌনে ৯ টার দিকে হাজতের জানালার গ্রিলের সাথে গায়ের ফতুয়া দিয়ে তার ফাঁস দেওয়া মরদেহ দেখা যায়।