পুলিশে যোগ হচ্ছে মেডিক্যাল শিক্ষা ও এয়ার উইং ইউনিট

26
Social Share

দিন যত যাচ্ছে পুলিশ বাহিনীর কাজের পরিধিও তত বাড়ছে। দেশের মানুষের জন্য পুলিশি সেবা বাড়াতে বাহিনীতে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ইউনিট। সব মিলিয়ে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে ইউনিট রয়েছে ১৭৭টি। নতুন করে যোগ হচ্ছে মেডিক্যাল, শিক্ষা ইউনিট, এয়ার উইংসহ আরো একাধিক ইউনিট। বর্তমানে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার। পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্বে রোল মডেল হবে বাংলাদেশ পুলিশ। অসৎ কোনো কর্মকর্তা এই বাহিনীতে থাকতে পারবেন না। সৎ কর্মকর্তারা টিকে থাকবেন। মাদক, দুর্নীতিসহ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নও এখন ঈর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সারা দেশের ইউনিটগুলোতে রয়েছে সাইবার সেকশন। আলাদাভাবে সাইবার থানা করারও চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক গঠন করা হয় পুলিশের আলাদা ইউনিট। পুলিশের কনস্টেবল থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবাইকে নিয়মিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হচ্ছে। সারা দেশেই অনেকগুলো ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। দেশের বাইরে গিয়েও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমনের সফলতা জানাতে ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সেসব দেশে যেতে হচ্ছে।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে একেবারেই ক্লু লেস অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পুলিশের সাফল্যের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তবে থানা পর্যায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এখনো অনেক অভিযোগ রয়েছে। এক শ্রেণির ডিআইজি ও এসপির সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে থানা পর্যায়ের এক শ্রেণির পুলিশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

ডিউটি অফিসারের কক্ষ, হাজতখানা এবং সেন্ট্রিবক্স—এই তিনটি স্থানকে ঘিরেই আবর্তিত হয় থানার মূল কার্যক্রম। অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে অবহেলাসহ দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ এসব স্থানকে কেন্দ্র করেই। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর মনিটরিংয়ের কারণে ঢাকা রেঞ্জের ৯৬টি থানার দৃশ্য অনেকটাই পালটে গেছে। রিমোট মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে ঢাকা রেঞ্জের ৯৬টি থানা।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনসহ নানামুখী দায়িত্ব পালন করতে হয় পুলিশকে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মামলা নেওয়া, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা, বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা, ভিআইপি নিরাপত্তা ও প্রটোকল দিতে হয় এই বাহিনীকে।

এক সময় পুলিশ সদর দপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), সারদা পুলিশ একাডেমিসহ কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টার, বিভাগ, মহানগর, জেলা ও থানা ইউনিট ছাড়া আর কোনো ইউনিট ছিল না পুলিশে। বর্তমানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ও ট্রাফিকসহ অনেকগুলো বড় ইউনিট রয়েছে পুলিশ বাহিনীতে। এছাড়া রয়েছে নৌ, হাইওয়ে, রেলওয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ট্যুরিস্ট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন)।

মানুষকে তাৎক্ষণিক সেবা দিতে করা হয়েছে ‘৯৯৯’ নামের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। পুলিশ সদর দপ্তরসহ প্রত্যেকটি ইউনিটে ফেসবুক পেইজ খুলে সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করছে পুলিশ।

অসংখ্য ভুক্তভোগী পুলিশের এ দুটি মাধ্যমের সহযোগিতা নিয়ে আশানুরূপ সেবা নিচ্ছেন। রয়েছে বিডি পুলিশ হেল্প লাইন নামের অ্যাপস। জঙ্গি দমনের জন্য দ্রুত অ্যাকশনে যেতে রয়েছে সোয়াত নামের পুলিশের আলাদা কমান্ডো ইউনিট। আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোলের সদস্য বাংলাদেশ পুলিশ? পুলিশ সদর দপ্তরে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো নামে ইন্টারপোল সংক্রান্ত কাজ করে এই ইউনিট। বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা দেশের দাগি সন্ত্রাসীদের ধরতে এই শাখা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশে এখন অত্যাধুনিক ফরেনসিক বিভাগ, মানি লন্ডারিং, মানব পাচার, কল ডায়ালিং রেকর্ড (সিডিআর) সেকশন রয়েছে।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ পুলিশ এখন বিশ্বে ‘রোল মডেল’। পেশিশক্তি নয়, ব্যবহার করতে হবে আইনি সক্ষমতা। জনগণের কল্যাণে কাজ করার অপার সুযোগ রয়েছে পুলিশের। পুলিশ হতে পারে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ও সোশ্যাল লিডার।