পুলওয়ামায় ঘিরে রেখে গুলির লড়াই, নিহত শীর্ষ হিজবুল কমান্ডার রিয়াজ নাইকু

এনকাউন্টারে নিহত হিজবুল কমান্ডার রিয়াজ নাইকু (ইনসেটে)। —ফাইল চিত্র
Social Share

লকডাউনের মধ্যেও জঙ্গি কার্যকলাপে ছেদ পড়েনি জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায়। তৎপর নিরাপত্তা বাহিনীও। বুধবার সকাল থেকে ঘিরে রেখে শেষ পর্যন্ত হিজবুল মুজাহিদিনের শীর্ষ জঙ্গি রিয়াজ নাইকুকে নিকেশ করল যৌথ বাহিনী। পুলওয়ামার বেইগপুরায় মঙ্গলবার রাত থেকে ঘিরে রেখে চলছিল গুলির লড়াই। শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরের দিকে বিস্ফোরণে একটি বাড়ি উড়িয়ে দিয়ে রিয়াজ নাইকুকে মারতে সক্ষম হয় ভারতীয় সেনা, সিআরপি এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে জঙ্গি গতিবিধির খবর পেয়ে বেইগপুরা এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী।  সকাল হতেই শুরু হয় অভিযানের প্রস্তুতি। এর পর  সকাল ন’টা নাগাদ জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় ঘিরে ফেলা হয়েছে হিজবুল মুজাহিদিনের এক শীর্ষ জঙ্গিকে। জম্মু-কাশ্মীরের ১০টি জেলাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট কানেকশন। পরে পুলিশ ও সেনার বিভিন্ন সূত্রে খবর মেলে, ওই জঙ্গি আসলে হিজবুল মুজাহিদিনের জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বপ্রাপ্ত জঙ্গি কমান্ডার রিয়াজ নাইকু। ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলা এলাকা ছোট করে আনতে থাকে যৌথ বাহিনী। তখন একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় রিয়াজ নাইকু। তার পরেই বিস্ফোরণে ওই বাড়িটি উড়িয়ে দেয় বাহিনী। পরে তল্লাশি চালিয়ে দুই জঙ্গির দেহ উদ্ধার হয়। তার মধ্যে এক জন রিয়াজ নাইকু বলে শনাক্ত করেছে যৌথ বাহিনী।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, হিজবুলের ওই শীর্ষ জঙ্গি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে। ২০১৬ সালে বুরহানওয়ানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হওয়ার পর উপত্যকায় হিজবুল জঙ্গি গোষ্ঠীর দায়িত্ব নেয় রিয়াজ নাইকু। দীর্ঘ দিন ধরেই এই রিয়াজ নাইকু জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। তার মাথার দাম ছিল এ ছাড়া দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই জঙ্গি দলে স্থানীয়দের নিযুক্ত করার কাজ করছিল সে। পাশাপাশি পুলিশকর্মী-অফিসারদের হত্যার মতো ঘটনায় তার নাম মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। ২০১৮ সালে সোপিয়ান ও পুলওয়ামা এলাকায় প্রচুর স্পেশাল পুলিশ অফিসারকে (এসপিও) অপহরণ করে তাঁদের চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হচ্ছিল। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, ওই ঘটনা-সহ একাধিক অপরহণ, খুনের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত এই হিজবুল কমান্ডার।

এ দিন সকালে জম্মু কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে টুইট করা হয়, ‘‘নির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে অবন্তিপুরের বেইগপুরায় গত রাত থেকে অপারেশন শুরু হয়েছে।’’ তার পর ৯টা সাত মিনিটে ফের টুইটে জানানো হয়, ‘‘অবন্তীপুরে শীর্ষ জঙ্গি কমান্ডারকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। গুলির লড়াই চলছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।’’

অন্য দিকে পামপোরের অভিযান শুরু হয়েছিল মঙ্গলবার রাত এগারোটা নাগাদ। পুলিশ জানিয়েছে, ১২.১৫ নাগাদ জঙ্গিদের উপস্থিতি নির্ধারণ করা হয়। তার পর দীর্ঘক্ষণের গুলির লড়াইয়ে দুই জঙ্গি নিহত হয়। এলাকা ঘিরে এখনও চলছে তল্লাশি।