পুরোনো আইফোন কেনার আগে যা জানা জরুরি

65
আইফোন
Social Share

স্মার্টফোন জগতে আইফোনের অবস্থান যে একেবারেই শুরুতে তা নিয়ে দ্বিমত নেই কারওই। একেবারে শুরু থেকেই এটি বাজারে এবং ক্রেতার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। কিডনি বেচেই হোক আর বাড়ির জমি বেচে আইফোন কিনতেই হবে। এমন মিমের কথা অনেকেই শুনে থাকেন। তবে এর আসল কারণ হচ্ছে আইফোনের দাম নিয়েই আসলে বিপত্তি।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নতুন আইফোন এর বাজারমূল্য থাকে অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে পকেটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় রীতিমতো। তবে এর বিকল্প হিসেবে অনেকেই পুরোনো আইফোন কেনার কথা চিন্তা করেন।

Read more:

Marine Press Conference || Maritime Policy dialogue.

India Blocks Language About Ending Coal 

মূলত সৌন্দর্য আর পারফরমেন্স এর কথা বিবেচনা করে অনেকেই এসব ব্যবহৃত আইফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে এর বাইরে আরও কিছু বি৯শয় আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। নাহলে পুরোনো আইফোন কিনে পড়তে পারেন নানান ঝামেলায়।

আইফোনের আসল মালিকানা
পুরোনো আইফোন কেনার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হোন সেটি সেই ব্যক্তির নিজস্ব কি না। অনে সময় চুরি যাওয়া আইফোন অল্প দামে কিনে আবার তা অন্যজনের কাছে বিক্রি করে। সেক্ষেত্রে যদি চুরি করা ফোন হয় তাহলে আপনি আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন।

আইফোনের মালিকানা নিশ্চিত করতে ফোনের Settings থেকে General সেকশনে প্রবেশ করুন। সেখান থেকে About সেকশনে প্রবেশ করুন। নিচের দিকে স্ক্রল করে IMEI কোডটি খুঁজে বের করুন, যা সাধারণত ১৫ ডিজিটের সংখ্যা হয়ে থাকে। IMEI কোডটি কোথাও লিখে রাখুন। CTIA Stolen Phone Checker সাইটে প্রবেশ করে ফোনের IMEI কোডটি লিখুন। এরপর উক্ত ফোন চুরিকৃত ফোন হলে রেড নোটিস এবং চুরিকৃত ফোন না হলে গ্রিন নোটিস দেখতে পাবেন।

অ্যাক্টিভেশন লক
আইফোন এর অন্যতম নিরাপত্তা ফিচার হচ্ছে এর আইক্লাউড লক অথবা অ্যাক্টিভেশন লক। ফাইন্ড মাই আইফোন ফিচারের মাধ্যমে আইফোন এর মালিক তার অ্যাপল আইডি দিয়ে সাইন-ইন করে ফোনটিকে লক করে রাখতে পারবেন। এরপর কেউ আইফোনটি চালু করতে চাইলে ওই আইক্লাউড লক না খুলে ফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন না। ফোনটি চালু করতে চাইলে আইক্লাউডে ঐ অ্যাপল আইডি দিয়ে সাইন ইন করে আগে ফোনটি আনলক করতে হবে।

তাই আইফোন কেনার আগে দেখে নিন এর ফাইন্ড মাই আইফোন বা আইক্লাউড লক খোলা আছে কিনা। যদি লক করা থাকে তাহলে ফোনের যিনি মালিক বা বিক্রেতা, তার কাছ থেকে ওই লকটি খুলে নিন। আইফোন থেকে আইক্লাউড বা এপল আইডি দিয়ে যত জায়গায় সাইন-ইন করা আছে সব জায়গা থেকে সাইন-আউট করে নিন। ফোনটি পুরোপুরি ফ্যাক্টরি রিসেট করে নিন।

ব্যাটারি হেলথ
আইফোন কেনার আগে অবশ্যই ওই ফোনের ব্যাটারি হেলথ কতটুকু জেনে নিন। যা ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ব্যাটারির আয়ু পরিমাপ করে ব্যাটারির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে। আইফোনের ব্যাটারি হেলথ জানতে Settings এগিয়ে Battery সেকশন থেকে Battery Health এ প্রবেশ করুন। Battery Health সেকশনে দেখতে পাবেন ফোনের ব্যাটারি হেলথ কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে

সাধারণত একটি নতুন আইফোন এর ব্যাটারি হেলথ ১০০% থাকে। ফোনের ব্যাটারি হেলথ দেখেই ফোনটি কত সময় ধরে ব্যবহার হয়েছে, তার ও একটি ধারণা পেয়ে যাবেন। উল্লেখ্য যে, ব্যাটারি রিপ্লেস করেও পুনরায় সম্পূর্ণ ব্যাটারি হেলথ ফিরে পাওয়া সম্ভব।

সিম সাপোর্ট
মাঝেমধ্যে অভ্যন্তরীণ ড্যামেজ কিংবা সফটওয়্যার বাগ এর কারণে আইফোনে সিম কাজ করেনা। এছাড়াও অনেক লকড আইফোনে বাইপাস পদ্ধতি ব্যবহার হয়। যার ফলে ফোন ব্যবহার করা গেলেও ফোনে সিম কার্ড সাপোর্ট করেনা। তাই ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে এটি নিশ্চিত করুন, যে ফোনটি আপনি কিনতে যাচ্ছেন সেটিতে সিম ঠিকমত কাজ করবে কি না।

হার্ডওয়্যার এর অবস্থা
ব্যবহৃত আইফোনের বডিতে ছোটখাটো স্ক্র্যাচ বা দাগ থাকা সাধারণ ব্যাপার। তবে এসব কোনো ভারী আঘাতের ফলে হয়েছে কিনা, কেনার পূর্বে তা ও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই ব্যবহৃত আইফোন কেনার পূর্বে অবশ্যই ফোনের ফিজিক্যাল বাটন, টাচ আইডি/ফেইস আইডি (যদি থাকে), থ্রিডি টাচ সেন্সর, ক্যামেরা লেন্স, ওয়াটার ড্যামেজ সেন্সর পরীক্ষা করে যাচাই করে নিবেন।

স্টোরেজ ক্যাপাসিটি
যেকোনো আইফোন মডেলই বিভিন্ন স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়, যা ১৬জিবি থেকে শুরু করে ৫১২জিবি পর্যন্ত বিদ্যমান। আপনার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে যে আইফোনটি আপনি কিনতে যাচ্ছেন তা যথাযথ কিনা, সেটি নিশ্চিত করে নিন। তবে বর্তমান সময় বিবেচনা করে ৬৪জিবি থেকে কম স্টোরেজযুক্ত আইফোন না কেনাই ভাল।

আরও পড়ুনঃ

ডেস্কটপ-ল্যাপটপ নিরাপদ রাখতে করণীয়

টেলিগ্রাম একগুচ্ছ নতুন ফিচার নিয়ে এলো!

দাম যাচাই করুন
যে কোনো কিছু কেনার আগে তার দাম সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আপনি যে ব্যবহৃত আইফোনটি কিনতে যাচ্ছেন সেটির মূল্য নতুন আইফোনের তুলনায় কম হবে, তা ই স্বাভাবিক। তবে আসল বাজারমূল্য থেকে যদি অতিরিক্ত কম দামে ব্যবহৃত আইফোন কেনার জন্য পান, তবে সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।

একটি ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড ডিভাইস কেনার চেয়ে একটি ব্যবহৃত আইফোন কেনা অনেকটাই জটিল একটা ব্যাপার। তাই ব্যবহৃত আইফোন কেনার সময় উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিচার বিবেচনা করে কিনবেন।

ভিনিউজ/তাসনিম