পুরির রথযাত্রা বন্ধের আদেশ :ভারতের সুপ্রিম কোটের রায়

Social Share
প্রলয় ভট্টাচার্য্য তম্ময়ের ফেসবুক থেকে
আমার এক ভারতীয় আইনজীবী বন্ধুর হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে গতকাল বেশ সকালেই জানতে পারি আগামী ২৩ জুন উড়িষ্যার পুরীতে
অনুষ্ঠিতব্য হাজার বছরের ঐতিহাসিক রথযাত্রা অনুষ্ঠান বন্ধ করা বা না করার বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ১ নং ভার্চুয়াল বেঞ্চে দুপুর ১২টার দিকে ‘উড়িষ্যা বিকাশ পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের দায়ের করা রিট পিটিশনের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইটেম নম্বর ১১। বেঞ্চ প্রিসাইড করবেন ভারতের প্রধান বিচারপতি  মিঃ এস.এ. বোবদে। তাঁর সংগীয় বিচারকগন হলেন, বিচারপতি দীনেশ মহেশ্বরী ও বিচারপতি এ.এস. বোপান্না। মামলাটি নিয়ে আমার আগ্রহের কমতি ছিলনা। ভাবলাম অফিসে যেয়ে ১২ টার পর থেকে ভার্চুয়াল বন্ধুর সংগে ভার্চুয়ালী যুক্ত থাকার। জানালামও তাঁকে। রাজী হলেন তিনি। পরক্ষণেই চিন্তায় পড়ে যাই, যখন আমার মনে পড়ে প্রায় একই সময়ে আমাদের ম্যানেজমেন্ট ক্রেডিট কমিটির সভা রয়েছে। তড়িঘড়ি করে প্রস্তুত হয়ে রওয়ানা হলাম অফিসে। হাতের কিছু কাজকর্ম সেরে ভার্চুয়াল এম সি সি মিটিং এ যোগ দিলাম। মিটিং শেষ হলো প্রায় আড়াইটার দিকে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে যোগাযোগ করলাম তাঁর সাথে। তিনি একটি লিংক পাঠালেন। যুক্ত হয়ে দেখি কয়েকজন পন্ডিত ব্যাক্তির সংগে চলছে এ নিয়ে আলাপচারিতা।  একজন বাদে সকলেই হিন্দি ভাষী। তিনি আমার সংগে সকলের পরিচয় করিয়ে দিলেন। শুরু হলো ইংরেজি ভাষায় আলাপচারিতা, ভারতের সংবিধান বিশ্লেষণ- যা আমার মত একজন স্বল্প লেখাপড়া জানা মানুষের জন্য ভয়ংকর এক পরিস্থিতি। তবুও আমার স্বল্প জ্ঞানে যতদুর বুঝলাম, সুপ্রিম কোর্টের এক নম্বর ভার্চুয়াল বেঞ্চে  ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া এর বিরুদ্ধে ‘উড়িষ্যা বিকাশ পরিষদ’ এর দায়ের করা রিট পিটিশনের  শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। রথযাত্রার উপর blanket ban না দিয়ে খুব সীমিত পরিসরে, সম্পুর্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনসমাগম ছাড়াই ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের নিমিত্তে Leeway allow করার জন্য সরকারের আবেদন নিবেদন গ্রাহ্যই করেনি সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট কোভিড ১৯ মহামারীর কারণে ভারতীয় সংবিধানের  ২৫ অনুচ্ছেদ কে আমলে নিয়ে ২৩ জুন অনুষ্ঠিতব্য রথযাত্রা অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে Times of India এর ওয়েব সাইটে যেয়ে দেখি আবেদনকারীর পক্ষে  শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন, ভারতের প্রখ্যাত আইনজীবী  মিঃ মুকুল রোহাতগি, মিঃ রঞ্জিত কুমার, মিসেস রঞ্জিতা রোহাতগী প্রমূখ  সিনিয়র আইনজীবীগন। রেস্পন্ডেন্ট পক্ষে ভারত সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করেন সলিসিটর জেনারেল মিঃ তুষার মেহতা।
 আরও ছিলেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী মিঃ মহেশ আগরওয়াল, মিঃ কে রামমুর্তি প্রমূখ। শুধু তাই নয়, আরও জানতে পারি শুনানিকালে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সরকার পক্ষের সব যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে মন্তব্য করেছেন,  ‘Lord Jagannath will not forgive us if we allow this year’s Rath Yatra.’
ভারতের বড় বড় সংবাদ মাধ্যম এই ঐতিহাসিক রায় ফলাও করে প্রচার করেছে।
আমরাও এই রায়কে স্বাগত জানাই।