ক্রীড়া প্রতিবেদক: কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ড যেন বারবার আর্জেন্টিনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল, বিশ্বকাপের নক আউটে এক মুহূর্তের অসতর্কতাই সব স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে। প্রতিপক্ষের আক্রমণের চাপ, সমতায় ফেরার ধাক্কা, এর পরও ভেঙে না পড়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেওয়া-এই আর্জেন্টিনাকে দেখে যেন চার বছর আগের দলের সঙ্গে পার্থক্যটা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষে তাই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ল দলটির মানসিক দৃঢ়তার গল্প, যে দৃঢ়তা কাতারের পর আরো পরিণত হয়েছে বলেই জানান তিনি।
‘কাতারে আমরা অভিজ্ঞ ছিলাম না। এমনকি আমিও অনভিজ্ঞ কোচ ছিলাম। ওই ধরনের পরিস্থিতিগুলো ছিল ভীষণ কঠিন। তবে এখন আমরা অনেক বেশি অভিজ্ঞ। প্রতিপক্ষের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়লে বা সমতাসূচক গোল হজম করলে কেমন অনুভূতি হয়, সেটা আমরা জানি। আজ আমরা শান্ত থেকে খেলেছি, অস্থির হইনি। এই দল জানে, কিভাবে শান্ত থাকতে হয়। আর আমরা কখনোই হাল ছাড়ব না’- বলেছেন স্কালোনি। নক আউটে আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ছন্দে ছিল না। তবু অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসদের নৈপুণ্যে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তিনবারের
বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ঠিকই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের পর স্কালোনির কন্ঠে স্বস্তির আরেকটি কারণ ছিল তাঁর বেঞ্চের শক্তি। প্রয়োজনের মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব ফেলতে পারার সক্ষমতা নিয়ে সন্তুষ্ট আর্জেন্টাইন কোচ বলেছেন, ‘আমাদের বেঞ্চেও এমন মানের খেলোয়াড় আছে, যারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটা আমাদের জন্য দারুণ একটা ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত আমরা সব সময়ই সমাধান খুঁজে বের করি।’ শিষ্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন স্কালোনি, ‘এই খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ। কারণ তারা পুরো প্রক্রিয়াটার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা একটি সম্মিলিত দল, ভীষণ ঐক্যবদ্ধ একটি দল। ফুটবল যে কত কঠিন খেলা, সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। অ্যালেক্সিস থাকবে, কারণ সে অসাধারণ পরিশ্রম করেছে।’ দলের সেরাদের একজন। ওর জন্য আমার আলাদা প্রশংসা সেই সম্মিলিত পরিশ্রমের ফলই পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। টানা ছয়টি বড় টুর্নামেন্টেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভীষণ গর্বিত, ‘আমি বিষয়টা নিয়ে আগে ভাবিনি। কিন্তু এটা অবশ্যই এমন একটি অর্জন, যা নিয়ে গর্ব করা যায়।’ আলবিসেলেস্তারা। এমন ধারাবাহিক সাফল্য নিয়ে স্কালোনি শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দেকে হারাতে অতিরিক্ত সময়ে যেতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। শেষ ষোলোতে মিসরের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসি জাদুতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে স্কালোনির দল। আর সর্বশেষ সুইসদের বিপক্ষেও জয় এসেছে অনেক ধৈর্যের পর।
স্কালোনির বিশ্বাস, বিশ্বকাপের শেষ চার পর্যন্ত আসতে হলে এমন পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হয়। আর্জেন্টাইন কোচ বলেছেন, ‘সেমিফাইনালে উঠতে চাইলে কষ্ট সহ্য করতেই হবে। এই পর্যায়ে কোনো ম্যাচই সহজ হয় না। এমন কঠিন পথ পেরিয়েই এগোতে হয়। আমরা জানতাম, আমাদের ভুগতে হবে এবং এটাই মেনে নেওয়া আমাদের রক্তে আছে। এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের ডিএনএতে আছে। এই ক্ষমতাটুকু থাকা আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।’ আর্জেন্টিনা এবার শিরোপা জিতলে সুন্দর-সাবলীল ফুটবলের চেয়ে অদম্য মানসিকতার দল হিসেবেই বেশি স্মরণীয় হবে বলে মনে করেন স্কালোনি।




