পাবনা -৪  আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে তৃনমূলের ত্যাগী ও বঞ্চিত  নেতা কর্মীরা রফিকুল ইসলাম লিটনকে চায়- ইসাহক আলী মালিথা, সাধারণ সম্পাদক, ঈশ্বরদী  পৌর আওয়ামী লীগ

Social Share

ভিনিউজ-

পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি তবে এই উপ-নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে ঈশ্বরদী ও আটঘোরিয়ায় আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আওয়ামীলীগের প্রায় এক ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশিদের নিয়ে নানান আগ্রহের জন্ম নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা তার চিন্তা চেতনায় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের একজন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম লিটনকে নিয়ে বিশ্লেষন করেছেন তার মত করে।
ইছাহক মালিথা বলেন, কিছুদিন আগেও ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী সবাই একটা ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করতো। এখানে অনুমতি ছাড়া কেউ কোন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারতো না। লিটনের নেতৃত্বে ঈশ্বরদীর ত্যাগী বঞ্চিত নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সেই ভুতুড়ে পরিবেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা আজ একটা সুন্দর জায়গায় আসতে পেরেছি। আর তাই আজ অনেকেই মন খুলে তার দাবীর কথা বা ইচ্ছার কথা বলতে পারছেন, নির্দ্বিধায় প্রার্থীও হতে পারছে। দ্বিতীয়ত: ঈশ্বরদীতে দীর্ঘ দিন থেকে একটা বলয় তৈরী করা হয়েছিলো সেই বলয়ের বাইরে কেউ কোন নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে ঐ বলয়ের সবাই মিলে তাকে পরাজিত করা হতো যেমন ১৯৯১ এ সংসদ নির্বাচনে একটা চক্র নৌকা মার্কার প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলো। আমার ভাই আব্দুর রহিম মালিথা যিনি ঈশ্বরদী আওয়ামীলীগ পুনর্গঠনে ভুমিকা পালন করেছিলেন ঐ একই চক্র তার পৌরসভার নির্বাচনে বিরোধিতা করেছিলো। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একজন প্রবীন নেতা রেজাউল রহিম লালকে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন দিলো অথচ তার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থেকে প্রাথী দেওয়া হলো। দু:খজনক হলেও সত্যি ঈশ্বরদীর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদতো করলোই না বরং অধিকাংশই প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়লো। সেদিনও কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একমাত্র লিটনই আমাকে সাথে নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে  কাজ করেছে। সেদিন আমাদের কর্মী বাহিনী আমাদের পাশে ছিলো। ঈশ্বরদীর আওয়ামীলীগের  এই চক্র বারবার কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে। কেউ কেউ সরাসরি তাদের সাথে থেকেছে অথবা ‘পরিবেশ খারাপ’ এই কথা বলে কেউ কেউ নিরব ভূমিকা পালন করেছে। ঈশ্বরদীর প্রতিটা ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ডেও ত্যাগী বঞ্চিত এবং নির্যাতিত নেতা কর্মীরা লিটনের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
ইছাহক আলী মালিথা বলেন, সাঁড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাবেক ছাত্রনেতা ত্যাগী এবং বঞ্চিত। মুলাডুলির সাবেক চেয়ারম্যান কাদের মন্ডলের ছোট ভাই আওয়ামীলীগ নেতা ফান্টু মন্ডল তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সাংগঠনিক ভিত্তি আছে। দাশুড়িয়া শহীদ পরিবারের সন্তান দু:সময়ের আওয়ামীলীগ নেতা এনামুলের নেতৃত্বে অনেক নেতাকর্মী ওখানে ঐক্যবদ্ধ। সলিমপুর নায়েক (অব:) এম এ কাদের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ আমাদের অসংখ্য নেতা কর্মী ওখানে সুসংগঠিত। সাহাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও  সাধারণ সম্পাদক আকাল সরদার এবং আতিয়ার রহমান ভোলা ছাড়াও মজিবর সরদারসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীরা আওয়ামীলীগের জন্য পরিচিত মানুষ। লক্ষীকুন্ডায় সাবেক চেয়ারম্যান থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ত্যাগী এবং বঞ্চিত মোহাম্মদ আনিস মোল্লা। তৃণমুলের এসব নেতারা এখন প্রকাশ্যেই লিটনের সঙ্গে রাজনীতির মাঠে দৃশ্যমান। আবার ঈশ্বরদী শহরের পশ্চিম টেংরী বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিলো। ওখানে পাখি, নুরু, আবেদ, নান্টু, বাচ্চু, পান্ডে বাবু, সুর্য এদের নেতৃত্বে একটা জাগরণ তৈরী হয়েছে। ওপাড়াও এখন লিটনের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের দূর্গ।
ঈশ্বরদী উপজেলা এবং পৌরসভায় মালিথা পরিবারের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা মানুষ জানে। রহিম মালিথা একসময় ঈশ্বরদীর আওয়ামীলীগের কান্ডারি ছিলেন। আমি পৌর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। আমরা সবাই কিন্তু আওয়ামীলীগের প্রশ্নে আপোষহীন। আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি। লিটনের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো কথা বলবো। লিটনের জন্য আজ মানুষ প্রার্থনা করছে স্বপ্ন দেখছে। আমি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি এতো বিশাল কর্মী বাহিনী আর কখনো কোন নেতার পিছনে এভাবে ঐক্যবদ্ধ হয় নাই। কারন ঈশ্বরদীতে কোন নেতাই আগে কখনো কারো জন্য অর্থ ব্যয় করেছে এ ঘটনা আমার জানা নাই। এর আগে মাহমুদাকে নৌকা মার্কায় উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করার জন্য আমরা অর্থ শ্রম সব দিয়েছি। বিরোধীতার মুখেও সেদিন আমরা নৌকা মার্কার পক্ষে ছিলাম। প্রয়াত নেতা আনিসুন নবী সাহেবের কথা মনে করে তার মেয়ে কাকলীকে আমাদের পরামর্শে লিটনের নেতৃত্বেই সকল মানুষের সহযোগিতায় ভোট যুদ্ধে জয়লাভ করানো হয়েছে। অথচ ঈশ্বরদীতে বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীর জন্য টাকা খরচ করার উদাহরণ কোন নেতার নাই কিন্তু প্রার্থীর কাছে থেকে টাকা নেওয়ার ইতিহাস আছে। লিটনই প্রথম এই প্রথার বিপরীতে নৌকা মার্কা বা আওয়ামীলীগের প্রার্থীর জন্য নিজের টাকা খরচ করার নজির স্থাপন করেছে। লিটনই একমাত্র প্রার্থী যে মনোনয়ন পেলে কারো কাছে দয়া চাইতে হবে না যে ভোটটা করে দেন। আওয়ামীলীগের বিশ্বস্ত ত্যাগী নেতা কর্মীরা যারা দিন রাত লিটনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছে তারা জীবন দিয়ে লিটনকে জয়লাভ করানোর জন্য চেষ্টা করবে। ইছাহক আলী মালিথা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, এই উপ-নির্বাচন শুধু নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়, এ নির্বাচন আমাদের মর্যাদা রক্ষার নির্বাচন। তাই মনোনয়ন পেলে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই নির্বাচনে আমাদের নেতা রফিকুল ইসলাম লিটনের জন্য কাজ করবেন ইনশাআল্লাহ্।