পাবনা পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়ন ঘিরে প্রকাশ্য প্রতিবাদে নেমেছেন আ. লীগ নেতারা

21
Social Share

নির্বাচনে মনোনয়নে দলের ত্যাগী নেতারা অবমূল্যায়িত হয়েছেন দাবি করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে দলীয় সভানেত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন দলের জেলা নেতাদের একাংশ।

ত্যাগী নেতাদের ‘অবমূল্যায়নের’ অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দলের জেলা কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা।

তবে মনোনয়ন না পেয়ে ‘হতাশা’ থেকে এসব কথা বলছেন বলে মনে করছেন দলের মনোনয়ন পাওয়া আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দলের জেলা সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বাবুর সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবুর পরিচালনায় জেলা কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেন সন্টু, দলের জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত আলী বিল্লু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সরদার মিঠু আহমেদ, প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, অর্থ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, সদর উপজেলা সভাপতি মোশারোফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন, পৌর সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মামুন।

এছাড়াও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ উদ্দিন প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপু, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ফুরকান মালিথা, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সাহা, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি শহীদুর রহমান শহীদ, সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল আলম তৌফিক, সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুন্নাহার রেখা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দলের ১২ জন ত্যাগী নেতা ফরম তোলেন। এদের মধ্যে যে কাউকে মনোনয়ন দিতে লিখিত আবেদনও করেন তারা।“কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আরেকজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

এদিকে, মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ সমর্থন দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ উদ্দিন প্রধানকে।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরে তৃণমূল নেতাদের সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত একটি প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় কেন্দ্র থেকে পাল্টে দেওয়া হয়। সম্প্রতি দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠনেও তৃণমূলের নেতাকর্মীর মতামত অগ্রাহ্য করে অযোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত রাজনীতি করতে চাই।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন বলেন, “একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে তদবির করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী করেছেন। অবিলম্বে আমরা এই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানাই।”

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, “সাম্প্রতিককালে পাবনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। সংকট নিরসনে মাননীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি বলেন, “মনোনয়ন না পাওয়ার হতাশা থেকে অনেকেই নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। আশা করছি দ্রুতই তারা বিভেদ ভুলে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন।”

আগামী ৩০ জানুয়ারি ১৯৩ বছরের পুরনো পাবনা পৌরসভায় ভোট হবে।