পানি সংকটের সমাধান খুঁজতে আমরা বদ্ধপরিকর

Social Share

শুষ্ক মৌসুমে আমাদের পানিসংকটের সর্বোত্তম সমাধান খুঁজতে এবং আমাদের পানি ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে আমরা বদ্ধপরিকর, যেন এসব নদীগুলো আগামী প্রজন্মেও জীবিকার উৎস হয়ে থাকতে পারে।’

আজ সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ-ভারত : একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভবিষ্যৎ’-শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের আরো বেশি কিছু করার সুযোগ রয়েছে বা করা উচিত সেটি হলো আমাদের অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা। আমাদের মতো ঘনবসতির ও জীবিকার জন্য নদীর ওপর নির্ভরশীল দেশে এই বিষয়টি অত্যন্ত নাজুক। তিনি বলেন, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং ন্যায্য বণ্টন করার মধ্যেই আমাদের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ নিহিত। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ২০১৯ সালের থেকে দুপক্ষের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে।

শ্রীংলা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে আমাদের পানিসংকটের সর্বোত্তম সমাধান খুঁজতে এবং আমাদের পানি ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর, যেন এসব নদীগুলো আগামী প্রজন্মেও জীবিকার উৎস হয়ে থাকতে পারে। এজন্য বিভক্তি সৃষ্টি নয়, বরং যা আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করবে সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা বাংলাদেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখা নৌপথগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছি।

দুই দেশের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্প তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা আশুগঞ্জ ও জকিগঞ্জের মধ্যবর্তী কুশিয়ারা এবং সিরাজগঞ্জ ও দাইখোয়ার মধ্যবর্তী যমুনা নদীর খনন কাজে একমত হয়েছি যার এক তৃতীয়াংশ ব্যয় ভারত বহন করবে। সেই সাথে অভ্যন্তরীণ নৌ প্রটোকল সম্প্রসারণের পাশাপাশি আশুগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছি আমরা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশকে শুভকামনা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই মাসে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা এই সফরের প্রত্যাশায় রয়েছি কারণ, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই সম্পর্কের প্রতি অগ্রাধিকার দেন এবং এর চেয়েও বড় কারণ, বঙ্গবন্ধু একজন বিশ্বনন্দিত নেতা এবং বাংলাদেশ ও আমাদের উপমহাদেশের মুক্তির প্রতীক। ভারতে তাঁর নাম বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে যেমন সম্মান লাভ করেন, তেমনি ভারতেও সমান শ্রদ্ধার পাত্র।

ভারতে নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, আমাদের দুই দেশেরই কিছু ঘটনা কারণে বা অকারণে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো আসামে নাগরিকপঞ্জি হালনাগাদকরণ, যে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং বাংলাদেশের জনগণের উপর এর কোন প্রভাব থাকবে না।