পাকিস্তানে ভয়াবহ হতে পারে করোনা, হাসপাতালগুলির সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা, বললেন ইমরান খান

Pakistan’s Prime Minister Imran Khan listens while meeting with U.S. President Donald Trump in the Oval Office at the White House in Washington, U.S., July 22, 2019. REUTERS/Jonathan Ernst
Social Share

যদিও তিনি পুরোপুরি লকডাউনের পক্ষপাতী নন, তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ৫ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করেন, লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হলে তাঁরা ক্ষুধাতেই মারা যাবেন।

ইসলামাবাদ: গতকাল পাকিস্তানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্য়া ৪,১৮৩ ছুঁয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, হয়তো হাসপাতালগুলিও আর সামাল দিতে পারবে না।

বুধবার পাক স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩.০৭৬টি করোনা পরীক্ষা করিয়েছে তারা, সব মিলিয়ে ৪২,১৫৯। আক্রান্তের সংখ্যা কাল পর্যন্ত ৪,১৮৩, মারা গিয়েছেন ৫৮ জন, ২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।  শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৬৭ জন।  কোন প্রদেশে করোনা কতটা ছড়িয়েছে সেই তথ্য অবশ্য মেলেনি। যদিও বেসরকারি মতে, পাক পঞ্জাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২,১০৮, সিন্ধুতে ১,০৩৬, খাইবার পাখতুনওয়ালায় ৫২৭, গিলগিট-বালতিস্তানে ২১২, বালুচিস্তানে ২০৬, ইসলামাবাদে ৮৩ ও  পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ২৮।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেলফ আইসোলেশনের ব্য়াপারে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য আবার মানুষকে অনুরোধ করেছেন।  তাঁর আশঙ্কা, পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে হাতের বাইরে চলে যেতে পারে, হাসপাতালও তখন আর রোগী রাখার জায়গা পাবে না। যদিও তিনি পুরোপুরি লকডাউনের পক্ষপাতী নন, তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ৫ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করেন, লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হলে তাঁরা ক্ষুধাতেই মারা যাবেন।  লকডাউনের সময় ১ কোটি ২০ লক্ষ গরিব পরিবারে মোট ১৪৪ বিলিয়ন টাকা পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রকল্প তাঁর সরকার হাত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে প্রতিটি গরিব পরিবারে প্রতি মাসে পৌঁছে দেওয়া হবে ১২,০০০ পাকিস্তানি টাকা।

করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় দেশের ৭৫০,০০০-এর বেশি তরুণ তরুণী করোনা টাইগার ফোর্স প্রকল্পের আওতায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন ইমরান। এঁরা পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন গরিব পরিবারগুলির কাছে। পাক সেনা প্রধান  জেনারেল জাভেদ বাজওয়া সেনা আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, দেশ ও প্রাদেশিক সরকারগুলিকে করোনা অতিমারী সামলাতে সবরকম সাহায্য করতে।

এর মধ্যে ধর্মঘট শেষ করে কাজে যোগ দিয়েছে বালুচিস্তান ইয়ং ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় প্রোটেকটিভ কিট পাওয়া যাচ্ছে না, এ সপ্তাহে চিকিৎসকদের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে, বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে বালুচিস্তান সরকার অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে ঘোষণা করায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে তারা।