পাকিস্তানি গণহত্যার ৫০ বছর, স্বীকৃতি দিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করুক বিশ্ব

40
Social Share

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গৌরবময় স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বছর স্বাধীনতা লাভের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে গোটা জাতি।

তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে বীরত্বপূর্ণ লড়াই চালিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সেটি ছিল মার্চ মাসে। ফলে এই মার্চ মাস বাঙালির জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সেই মার্চ মাসের ২৫ তারিখ রাতটি ছিল বিভীষিকাময় একটি রাত। এই রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানের মাধ্যমে ন্যক্কারজনক গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, যা মানব ইতিহাসে আজও  সবচেয়ে ঘৃণিত গণহত্যা।

টানা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পরাজিত হয় পাকিস্তান। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর। কিন্তু আজও  সেই গণহত্যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পায়নি।

যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়। এছাড়াও ধর্ষণের শিকার হয় ৫ লাখেরও বেশি নারী ও শিশু। সে সময় গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী।

বাংলাদেশের গণহত্যাকে সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ পাকিস্তান এই গণহত্যা চালায় দীর্ঘ নয় মাস ধরে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের গণহত্যা আজও  বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়নি। অথচ ইউরোপ ও আফ্রিকার গণহত্যা স্বীকৃতি পেয়েছে।

এটি অত্যন্ত দুঃখের ও লজ্জার বিষয়, যে গণহত্যার কারণে হলোকাস্টের চেয়েও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল এবং একটি গোষ্ঠীর জাতিগত সত্ত্বা পরিবর্তনের লক্ষ্য ছিল, তা এখনও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়নি। স্বাধীনতার এই সুবর্ণ জয়ন্তীতে পাকিস্তানের সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্বব্যাপী গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি পাক। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সূত্র: সেন্টার অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্স