পশ্চিমবঙ্গে ষষ্ঠ দফার বিধানসভার ভোটগ্রহণ চলছে

44
Social Share

পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ষষ্ঠ দফায় বিধানসভার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এবারের ধাপে রাজ্যটির চারটি জেলার মোট ৪৩টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ১৭টি আসন, পূর্ব বর্ধমান জেলার ৮টি আসন, নদিয়া জেলার ৯টি আসন এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার ৯টি আসন।

এর আগে সেখানকার চতুর্থ দফায় ভোট সহিংসতায় ৫ জন নিহত হলেও পঞ্চম দফার ভোট যথেষ্ট শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছিল। তবুও ষষ্ঠ দফার ভোটে চোয়াল শক্ত করে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই পর্বে ১৫ হাজার ৪৮৬টি বুথে মোতায়েন করা হয়েছে ৭৮৩ কোম্পানি আধা সামরিক সেনা বাহিনী। এছাড়া ভোটরদের সুরক্ষা দিতে আছে কয়েক হাজার রাজ্য পুলিশ।

তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোট হিংসাকে রুখে রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ভোট পরিচালনা করা। ফলে আগের দফাগুলোর মতোই করোনাবিধি মেনে ভোটারদের বুথে যাওয়ার অনুমতি মিলছে। প্রতিটি ভোটারের মুখে মাস্ক ও হাতে ওয়ানটাইম গ্লাভস বাধ্যতামূলক। তাপমাত্রা মেপেই বুথের ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে কয়েকটি বুথে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি বলে খবর আসছে।

ষষ্ঠ দফার ৪৩টি আসনে তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি। এই দফায় বাম-কংগ্রেস-আব্বাস সিদ্দিকির জোট, সংযুক্ত মোর্চাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ দুই প্রতিপক্ষ। প্রতিটি বুথে সম্পূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া চলছে ইভিএম-এর মাধ্যমে। তবে উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ তৃণমূল শাসক দলের বিরুদ্ধে। ষষ্ঠ দফাতে পরিচালক রাজ এবং অভিনেত্রী কৌশানি মুখোপাধ্যায় তৃণমূলের দুই তারকা প্রার্থী আছেন।

এদিকে, করোনার প্রকোপের কারণে গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিধানসভা নির্বাচনের দফা কমানোর আরজি জানান রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৮ দফা ভোট প্রক্রিয়ার ইতোমধ্যে পাঁচ দফা সম্পন্ন হয়েছে। আজ, ২৭ এবং ২৯ এপ্রিল পরের তিন দফার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে ভারতের নির্বাচন কমিশন।

ভারতজুড়ে ভয়াবহ করোনার প্রকোপ বাড়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কলকাতা থেকে প্রায় সাড়ে চারশ’ কিলোমিটার দূরে উত্তরের একটি জেলায় নির্বাচনী বক্তব্য দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন, প্রয়োজনে পরের দফাগুলো কমিয়ে একটি বা দুটি দফায় ভোট করা হোক।

গত ২৭ মার্চ প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু। পরপর ৮ দফা শেষে ২ মে প্রকাশ করা হবে ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল।