পশ্চিমবঙ্গে কেন ব্যর্থ কারণ খুঁজে পেলেন মোদী-শাহরা?

36
Social Share

ভারতে পাঁচ রাজ্যে হয়ে গেল বিধানসভা নির্বাচন। বিজেপি এবার ধরেই নিয়েছিল এ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে। তবে অনেক হিসেব–নিকেশ, অনেক পরিকল্পনা করেও কাঙ্ক্ষিত জয়ের কাছাকাছিও যেতে পারেনি গেরুয়া শিবির। কেন এমন হল?‌ তা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিলেন অমিত শাহ। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পর দলের অন্দরে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫টি কারণ দেখছেন রাজ্য নেতারা। খবর: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি রাজ্যবাসীর আস্থায় কুঠারাঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে জেপি নড্ডা, পশ্চিমবঙ্গে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেও মানুষের মন জয় করতে পারেননি। কেন?‌

এক, মুখ্যমন্ত্রী মুখের অভাব বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। রাজ্য বিজেপি নেতারা প্রচারে গিয়ে মুখ তুলে ধরতে পারেননি। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা বারবার বাংলার ‘ভূমিপুত্র’–ই মুখ্যমন্ত্রী হবেন বললেও নির্দিষ্ট কারও নাম বলতে পারেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতো সম–যোগ্যের কোনও প্রার্থীকে সামনে আনতে পারেননি তাঁরা। শাসকদলের নেতাদের নিজেদের দলে টানা থেকে তোলাবাজি, টেট দুর্নীতি, আমফান দুর্নীতিকে তুলে ধরলেও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

দুই, ধর্মীয় মেরুকরণের পথে হেঁটে বাংলায় হিন্দু ভোটারদের টার্গেট করেছিল বিজেপি। তা দিয়েই জয়ের অঙ্ক কষেছিল তারা। কিন্তু সেই কৌশল কাজে আসেনি। আর বিজেপিকে রুখতে একযোগে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর চেষ্টা করেছে সব ধর্মের মানুষ। আবার বড় বেশি নির্ভরতা ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের উপরে। যা স্থানীয় স্তরের ইস্যুগুলিকে কাজে লাগাতে পারেনি।

তিন, ক্ষমতায় আসার যে লক্ষ্য বিজেপি স্থির করেছিল সেটা ছিল লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের উপরে। তাছাড়া লক্ষ্যটা ছিল দলের অভিজ্ঞতার তুলনায় অনেকটাই বেশি। তারপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘বহিরাগত’ বলে বারবার বিঁধেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ‘বহিরাগত’ কটাক্ষের পালটা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। বাইরের রাজ্যের মন্ত্রীরা বাংলার আবেগ, ভাষা, সংস্কৃতি বোঝেন না। যেটা কাজ করেছে এ রাজ্যের নির্বাচনে।

চার, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে মুসলিম ভোট এককাট্টা হলেও হিন্দু ভোটের সিংহভাগ ঝুলিতে টানা যায়নি। দুর্নীতিতে বিদ্ধ তৃণমূল নেতাদের দলে টানাও বুমেরাং হয়েছে। তারকাদের নিয়ে দল ভারী করেও বিশেষ লাভ হয়নি। মানুষের কাছে ক্রমাগত বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব তৈরি হয়েছে।

পাঁচ, বিজেপি-তে ‘আদি ও নব্য’ বিবাদ চরম আকার নেয়। দলের পুরনো নেতা–কর্মী, সমর্থকরা প্রাধান্য পায়নি। তাই তাঁরা মাঠে নেমে কাজ করেননি। আবার ভোটটাররা ভাল চোখে দেখেনি বিষয়টিকে। একই রাজ্য নেতাদের বক্তব্য, রাজ্যের সর্বত্রই প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনেক ভুল ছিল। আর নির্বাচন কমিশন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিবিআই, ইডি—সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিজেদের মতো করে তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই দাবিও সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করেছে।

ছয়, নির্বাচনের আগে টানা পেট্রোল–ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের দামবৃদ্ধি, দিল্লিতে কৃষক বিক্ষোভের মধ্যে বাংলার কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলাও বিজেপির বিরুদ্ধেই গিয়েছে। তাছাড়া বারবার এত আসনে জিতে গিয়েছি বলে যে দাবি করা হচ্ছিল সেই মাইন্ডগেমও কাজ করেনি।