পরিস্থিতির লাগাম টানতে তিন মন্ত্রীর বৈঠক আজ

সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। পেঁয়াজের ঝাঁজ সামলাতে না পেরে নিম্ন ও মধ্য আয়ের ভোক্তারা তাদের প্রয়োজনীয় তালিকায় এ পণ্যটি সংকুচিত করেছে। এরপর এখন  নাকাল অবস্থা চালের দাম বাড়ায়। দুই বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গত এক মাসে বাজারে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়েই চলেছে। এমনকি সরকারের অনুরোধও কানে তুলছেন না ব্যবসায়ীরা। পণ্য যথেষ্ট মজুদ থাকলেও সরবরাহ নেই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা অজুহাত তাঁদের।

এ পরিস্থিতিতে আজ রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ভবনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী  নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দামে অস্থিরতা অব্যাহত আছে। এক সপ্তাহ আগে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল গতকাল বিক্রি হয় ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজির বিআর-২৮ চালের দাম কেজিতে চার টাকা বেড়েছে।

চালের দাম বাড়ার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে মোটাদাগে চালের দাম বাড়েনি। চালের দামে যে প্রভাব পড়েছে, তা খুবই স্বাভাবিক। কারণ সরকার নিজেই ৩৬ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে চাল কিনছে। এর ফলে বাজারে কিছুটা দাম বাড়লেও কৃষক লাভবান হবে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগও অন্যতম কারণ। তবে সামনে চালের দাম বাড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, এখন নতুন ধান উঠছে।

অন্যদিকে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে পাঁচ লিটারের ক্যান ৪৮০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা তেল প্রতি লিটার ৯০ থেকে ১১০ টাকা। পাইকারি বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ থেকে ৪৭০ টাকায়। আর খোলা তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা।

ভোগ্য পণ্যের বাজার নিয়ে তিন মন্ত্রীর বৈঠক

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে আজ রবিবার  এফবিসিসিআই ভবনে দুপুর ১২টায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। সেখানে  চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুদ ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এফবিসিসিআই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (বিটিসি) প্রতিযোগিতা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।