পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি

60
Social Share

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রশ্ন তুলেছেন, ড. মুহম্মদ ইউনূস কীসের ডাক্তার? তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে একজন ডক্টর আছেন। ড. ইউনূস। উনি পশুর ডাক্তার? না মাছের ডাক্তার, না গরুর ডাক্তার? না বাংলাদেশের মানুষের সর্বনাশার ডাক্তার? একই আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আজ রবিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে শেখ সেলিম আরো বলেন,  ‘উনি (ড. ইউনুস) নাকি শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, যত অশান্তি উনি বাংলাদেশে ঘটানোর জন্য।

উনি দেশের পাই-পয়সার উন্নতিও করেননি। উনি ক্ষতি করে গেছেন। সুদ খাইয়েছেন। একজন সুদখোর। ’ 

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে (প্রধানমন্ত্রী) পদ্মা সেতু নির্মাণে বিভিন্ন দাতা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। জাপান, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা রাজি নয়। কিন্তু মাঝখানে একজন ডক্টর এসে ঢুকলেন। তারপর ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এসে বললো, দুর্নীতি হয়েছে। কী দুর্নীতি হয়েছে? এক পয়সাও দেয়নি। একটি টাকা দেয়নি, বলে দুর্নীতি হয়েছে। কী বিচিত্র। তিনি আরো বলেন, ড. ইউনূসসহ বাংলাদেশে কিছু কথিত বুদ্ধিজীবী আছে। তারা সবসময় নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক, এরা কোনোদিন চিন্তা করে না। এরা মানুষের শত্রু।

ভ্যাকসিন কিনতে বিএনপির দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে শেখ সেলিম বলেন, বিএনপি সব কিছুতেই দুর্নীতি খোঁজে। ওদের মাথার ভেতরে দুর্নীতি। ওদের রক্তে দুর্নীতি। সেজন্য ওরা সবকিছুতেই দুর্নীতি দেখে। অন্য কিছু চোখে ওদের পড়ে না। তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে। শ্রীলঙ্কা হলে কি তারা খুশি হবে? বাংলাদেশ ধ্বংস হলে ওরা খুশি হয়। তোরা কি বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাবি? বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি খুব মজবুত। বাংলাদেশ কখনও শ্রীলঙ্কা হবে না। প্রধানমন্ত্রী যে ধারায় উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন, তাতে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হবে। মালয়েশিয়া ও সুইজারল্যান্ড হবে। ’  

বিএনপি কথায় কথায় বলে সরকারকে টেনে নামাবে অভিযোগ করে এই সদস্য বলেন, ‘ওরা আওয়ামী লীগকে ২০০৯ সাল থেকে টানা আরম্ভ করেছে। তোরা যত টানবি আমাদের ক্ষমতা তত বাড়বে। আজকে ২০২২ সালে এসেছি। আরেকবার টান দিলে আমরা ২০৫০ সালে চলে যাবো। তোরা থাক ব্যাটা। ’ 

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিদেশিদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করে। দেশের ভাবমূর্তি ও ইজ্জত নষ্ট করে। আর বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়। বিদেশিরা বাংলাদেশে কোনও কিছু করতে পারবে না। বাংলাদেশের ভাগ্য এ দেশের জনগণ নিয়ন্ত্রণ করবে। বিদেশিরা নিয়ন্ত্রণ করবে না। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশে যে রকম সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে নির্বাচন হবে।

একই আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জাদুঘর নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর যন্ত্রপাতি নিয়ে ভাঙ্গায় জাদুঘর হবে। আমার প্রস্তাব থাকবে যারা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করেছে তাদের তথ্য ওই জাদুঘরে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, কোন নতুন রাস্তা তৈরির দরকার নেই। বিদ্যমান যে রাস্তাগুলো আছে তা মেরামত করে চলার উপযোগী করাতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বাজেট উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। এরমাধ্যমে দেশে নবদিগন্তের সূচনা হলো। যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।  

তিনি আরো বলেন, কীসের যাদুতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, এই প্রশ্ন আজ বিশ্ববাসীর। এখানে যাদু কিছু না, পিতা বঙ্গবন্ধুর মতোই দেশপ্রেম ও জনগণকে ভালোবেসে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেই তিনি দুর্বার গতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

ওই আলোচনায় আরো অংশ নেন আওয়ামী লীগের তানভীর শাকিল জয়, মো. শফিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, মোসা. তাহমিনা বেগম, উম্মে কুলসুম স্মৃতি, সৈয়দা রুবিনা আক্তার, এস এম শাহজাদা, এনামুল হক, মমতা হেনা লাভলী, শামীমা আক্তার খানম প্রমুখ।