পথ হারাবে না বাংলাদেশ

479
বাংলাদেশ
Social Share

বাংলাদেশ বারবার প্রমাণ করেছে- রাষ্ট্রের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন সংকটও কাটিয়ে ওঠা যায়। কিন্তু আদর্শ হারালে আবার কি ঘুরে দাঁড়ানো যায়? বাংলাদেশ যদি আদর্শচ্যুত হয়ে যায় তাহলে কি হবে? আমরা হেরে যাব? সাম্প্রদায়িকতার তীব্র লেলিহান শিখায় আমরাও কি পুড়ে যাব?

‘বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে মৌলিক লক্ষ্য এবং আদর্শ নিয়ে তার অন্যতম হলো ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। কিন্তু বাংলাদেশ কি তার সঠিক লক্ষ্যে আছে? নাকি আদর্শচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ হেরে যাচ্ছে? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বপদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা। সারা জীবন তিনি ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন তাঁর বক্তব্যেই সেটি পাওয়া যায়।

১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু যে বক্তব্য রাখেন সেখানে ছিল: ‘বাংলাদেশ হবে একটি আদর্শ রাষ্ট্র আর এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হবে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে; মুসলমান তার ধর্ম পালন করবে; খ্রিস্টান, বৌদ্ধ- যে যার ধর্ম পালন করবে। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, বাংলার মানুষ ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ চায় না। রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ধর্মকে বাংলার বুকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ ব্যবহার করে, তাহলে বাংলার মানুষ যে তাকে প্রত্যাঘাত করবে, এ আমি বিশ্বাস করি।’

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে আবার তিনি বলেন: ‘জনাব স্পিকার সাহেব, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবও না। ২৫ বৎসর আমরা দেখেছি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেঈমানি, ধর্মের নামে খুন, ধর্মের নামে ব্যভিচার- এই বাংলাদেশের মাটিতে চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলব, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছি।’ (বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পৃ. ৪৬)

ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মৌলিক কাঠামোর অংশ। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা উভয়ই। ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের একটি মৌলিক কাঠামো হওয়ায় সরকার ধর্ম বিবেচনা না করে সাধারণভাবে দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে যে ধর্ম প্রত্যেকের নিজস্ব বিষয়। একজন ব্যক্তি নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিত হবে ধর্মের ভিত্তিতে নয়।

একটি রাষ্ট্র একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর মানবাধিকারকে সম্মান করবে এবং তাদের মানবাধিকার ভোগে হস্তক্ষেপ করবে না। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে রক্ষা করবে; সবশেষে, রাষ্ট্রকে সর্বদা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মানবাধিকার ভোগ করার ইতিবাচক উপায়গুলো পূরণের চেষ্টা করতে হবে। ১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুচ্ছেদ ২৭, অনুশীলনটিকে পালন করার কথা জোরালোভাবে বলা হয়েছে।

সাধারণভাবে, একটি রাষ্ট্র ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সংখ্যালঘুদের বিবেচনায় না নিয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য দায়বদ্ধ। কিন্তু সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার এবং অসহিষ্ণুতাপূর্ণ অবস্থা থেকে রাষ্ট্রই বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করবে। বিশেষ সুরক্ষার আলোচনাটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮ (৪) এবং ২৯ (৩) উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার  সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রকে উৎসাহিত করবে।

সাম্প্রতিক কুমিল্লার একটি ঘটনার বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলছে। কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবের সময় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নির্যাতন, ভাঙচুর, সংঘষের্র ঘটনা ঘটেছে এবং সহিংসতায় মানুষ নিহত হয়েছেন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা কোনটাই বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদন করে না। এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।

গুজব ছড়িয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃণা উস্কে দেওয়া কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়। এ দেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

যাঁরা দেশপ্রেমিক এবং অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন, যাঁরা ধর্মের পাশাপাশি অন্যদের ধর্মকে সম্মান করেন, তারা আর এই ধরনের হিংস্র গোঁড়ামির উন্মাদনাকে সমর্থন করতে পারেন না। কুমিল্লার পূজা মণ্ডপে হামলার পর চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী এবং রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় কিভাবে উগ্রপন্থীরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা করেছে। ধর্মের নামে এই ধরনের সন্ত্রাসকে কোনভাবেই বাড়তে দেয়া যাবে না। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, সমাজকর্মী, মানবহিতৈষী ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী এবং প্রগতিশীল শক্তিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করেছেন।

অতি তুচ্ছ ঘটনায় বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, পাবনা, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নাটোর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও পিরোজপুরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে যেকোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও রাজনীতি হয়, কিন্তু কোন শাস্তি হয় না। ফলে থামছে না নির্যাতনের ঘটনা। অভিযোগ, নেপথ্যে ক্ষমতাশালীরা জড়িত থাকায় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা যায় না। প্রত্যেকটি হামলার পেছনেই অপশক্তি কাজ করেছে। ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহার করা হয়েছে।

মামলা হলেও দবৃত্তেরা শাস্তি পায়নি সবাই এখন জামিনে মুক্ত। কোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু মানুষ সুবিচার পায়নি বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া দÐবিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য একটি অপরাধ। কিন্তু বিভিন্ন সময় ধর্ম অবমাননাকর বিভিন্ন ঘটনার যেসব অভিযোগ শোনা যায়, সেসবের বিচারের কথাও তেমন শোনা যায় না। তবে এসব ঘটনায় দ্রুত ন্যায় বিচারের উদাহরণ সৃষ্টি করা না গেলে মানুষ ক্রমেই বিচার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারাতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে এ বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই একযোগে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধও কোনো বৈষম্যমূলক সমাজের জন্য হয়নি। বাঙালী জাতি দ্বিজাতি তত্বের বিস্তারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেনি। একদিকে ধর্মীয় বৈষম্য, অন্যদিকে জাতিগত বৈষম্য। বৈষম্য থেকে মুক্তি এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই তো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো।

এমন একটি রাষ্ট্রের জন্য এদেশের মানুষ লড়াই করেছে, যুদ্ধ করেছে, যে রাষ্ট্রটির জন্ম হলে সব নাগরিকের জন্য সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থাৎ সমতা এবং সামাজিক মর্যাদাটি সুনিশ্চিত হবে এবং এটি হবে বাঙালির বাংলাদেশ-সে যে ধর্মের বা বর্ণেরই হোক না কেন। সব ধর্ম বর্ণের মানুষ মিলেইতো এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। সব বাঙালির ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশ অর্জন করেছি। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের যে সংবিধানটি গৃহীত হলো সেই সংবিধানটি গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়েই কিন্তু চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ঘোষণা করা হলো। তার আবর্তেই কিন্তু আসলে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ এবং তার আগের লড়াইয়ের আকাঙ্ক্ষা যা ছিল, সেটারই প্রতিফলন ঘটল।

একসময় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পর গণমাধ্যমের খবরকে অতিরঞ্জিত বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হতো। আওয়ামী লীগ আমলে সে রকমটি হয়নি। সরকার রামু ও নাসিরনগরে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছে। সুনামগঞ্জে ত্রাণ সামগ্রীসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। দোষী কঠিন শাস্তির আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, প্রায় আগের সব ঘটনায়ই অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা এখনো সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগ নেতারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা মুখে বলেন কিন্তু বাস্তবে কজন তা মানেন। রাজনীতি মানে মানুষের সেবা। দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বঙ্গবন্ধু সারাটা জীবন এ কাজটি করেছেন। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগের কজন সে পথে হাঁটেন?

অনেক ঘটনা আছে যেগুলো সরকার, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরো একটু তৎপর থাকলে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই এসব ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। আর এসমস্ত ঘটনায় যদি অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা যেতো তাহলে এ পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হতো। দৃষ্কৃতিকারীরা এসব অপকর্ম করতে ভয় পেতো। সমাজের সকল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি সম্প্রীতর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষের জন্য এখন দরকার তাদের মনে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। প্রশাসন ও সরকারকে সকল নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আরো কাজ করতে হবে এবং নাগরিক সমাজকেও আরো এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকারের পক্ষে বলা হয় বাংলাদেশ ধর্মীয় বহুত্ববাদ বিকাশ ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সবাই সচেষ্ট। যেকোনো ধরনের সহিংসতা, বিভেদ মোকাবিলায় সরকার সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে শ্লোগান এনেছেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। এ শ্লোগানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ মানুষকে সব ধর্মের প্রতি সমানভাবে শ্রদ্ধা প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো উল্লেখ করেন, “সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে যেখানে সব ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা আন্তঃধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট করতে না পারে বা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমরা শান্তি এবং অগ্রগতিতে বিশ্বাস করি। আমরা আমাদের দেশের সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। যারা আইন লঙ্ঘন করে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে যত দ্রুত সম্ভব ঘটনার পিছনে যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য”।

তবে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আমাদের পারিবারিক পরিমণ্ডলে শিশুদের অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত শিক্ষা দেয়া, পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আলোচনা, শিশু সংগঠনে অপশক্তি ও অশুভ শক্তি নিয়ে আলোচনা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ, সুস্থ সামাজিকতার চর্চা, প্রগতিশীল রাজনৈতিক চর্চা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক আলোচনা, গণমাধ্যমে আসম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ওপর জোর দিতে হবে। সমাজে সাম্প্রদায়িক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার্থে রাষ্ট্র, সরকার ও প্রশাসনকে তার যথাযথ দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সদস্যরাও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনে সচেতন ও সচেষ্ট হন, তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি আস্থাশীল। তাঁর দৃপ্ত পদক্ষেপেই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে আরো এগিয়ে যাবে। আমরা মনে করি যতদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

আমাদের দায়িত্ব হলো আমাদের গণতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে সাম্য, সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের ও মানবাধিকারের লড়াইটিকে এগিয়ে নেয়া। তাই প্রশাসন ও সরকারকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় আরো কাজ করতে হবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে, যার স্বপ্ন তিনি সারা জীবন দেখেছেন যার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

লেখক-প্রাবন্ধিক ও রিসার্চ ফেলো বিএনএনআরসি