পথ হারাবে না বাংলাদেশ: এড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম

Social Share

বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুদ্র একজন কর্মী হতে পেরে সৌভাগ্যবান ও ধন্য মনে করি নিজেকে। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার সংস্পর্শে যাওয়ার আমার বহুবার সুযোগ হয়েছে। যতবার তার কাছে গিয়েছি, দেখেছি- ততবারই অবাক হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি। সরকারপ্রধান হিসেবে তার সততা, আত্মত্যাগ, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেম আমার মতো কোটি কোটি তরুণকে প্রেরণা দেয়, উৎসাহ জোগায়। শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকালেই পরম শান্তি অনুভব হয়। তিনি তার বাবা-মা, ভাই ও স্বজন হারানোর বেদনা ভুলে থাকার চেষ্টা করেন দেশের মানুষের মুখের হাসি দেখে। দেশের মানুষের মুখে যে হাসি ফোটানোর জন্য জাতির পিতা সারাজীবন লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, জেলে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশের মানুষকে এখন আর অনাহারে থাকতে হয় না- এ তো শেখ হাসিনারই অবদান। তার শাসনামলেই দেশের মানুষের ভাগ্যবদল হয়েছে, মানুষ সুখে বাঁচতে পারছে, শান্তিতে ঘুমাতে পারছে।

পঁচাত্তর-পরবর্তী দুঃসময়ে প্রবাসে থাকা অবস্থায়ই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয় শেখ হাসিনাকে। দেশে ফিরেই শুরু হয় তার নতুন জীবন। কাণ্ডারিহীন নৌকা যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই তিনি হাল ধরেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি চালান দলকে সুসংগঠিত করার কাজ। বাবার মতোই অসীম সাহসী শেখ হাসিনা কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাংলাদেশকে ব্যর্থ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের  সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেননি। দীর্ঘ ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় ফিরে আসে। ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেন শাসক হিসেবে তিনি যেমন নন্দিত, তেমনি গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর  মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কৃষকের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন ও দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন। এর মধ্যে রয়েছে দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তিনিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প। ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠন করেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরুসহ রাজনৈতিক হত্যা, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যাসহ সব হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

২০০১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী জোট বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় এসে দেশ শাসনের নামে লুটপাট ও দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টিতে ইতিহাস গড়ে তোলে। এই অপশক্তি তার পরও ক্ষমতায় থাকার জন্য বিরোধী দলকে দমন করার কৌশল হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করে ফেলে। আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিলীন ও নেতৃত্বশূন্য করার জন্য বারবার মারণাঘাত চালায় ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট। ২১ আগস্ট ভয়াল  গ্রেনেড হামলায়  শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রাণে বেঁচে  গেলেও আইভি রহমানসহ ঝরে যায় অসংখ্য তাজা প্রাণ।

ওয়ান ইলেভেনের পর আবারও ঝড় আসে আওয়ামী লীগের ওপর। দীর্ঘ ১১ মাস জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কারাগারে বন্দি রেখেও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার  লক্ষ্যে শুরু হয় নতুন পথচলা। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার ২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, চিকিৎসাসেবার জন্য সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। জনগণের ভরসাস্থল আওয়ামী লীগকে ২০১৪ সালেও বিজয়ী করে বাংলার মানুষ। শেখ হাসিনা এবার নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করেন পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কাজ। স্বপ্নের সেই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, মাথাপিছু আয় ১,৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ৩২ বিলিয়ন ডলারের ওপর  বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের মতো রের্কডও সৃষ্টি করেন শেখ হাসিনা সরকার।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে আবারও বিজয়ী করেন। চতুর্থ বারের মতো শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার কাজে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ প্রায় সব খাতেই অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করে নেদারল্যান্ডসের নামকরা ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশকে তারই কন্যা  শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার পথ তৈরি করে দিয়েছেন।

বাঙালি জাতির কাণ্ডারি শেখ হাসিনা ৭৪ বছরে এসেও দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিরলস কাজ করে চলছেন। তার নেতৃত্বে পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও প্রকাশক, টোটালনিউজ২৪.কম