পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ ও মন্ত্রী মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন

342
Social Share

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়ে গঠিত পঞ্চগড়-২ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম সুজনের জš§ এক সভ্রান্ত পরিবারে ১৯৫৬ সালের ৫ জানুয়ারি বোদা উপজেলার মহাজনপাড়া গ্রামে।

পারিবারিক জীবন
তাঁর পিতার নাম মরহুম ইমাজ উদ্দিন আহম্মেদ এবং মাতার নাম মরহুমা কবিজান নেছা। পিতা এলাকার একজন বিশিষ্ট ভূমি মালিক ছিলেন। তিনি তার পিতা মাতার সর্ব কণিষ্ঠ সন্তান হিসাবে জন্ম গ্রহণ করেন। বড় ভাই এ্যাডভোকেট মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি সর্ব কণিষ্ঠ। তার স্ত্রীর নাম মিসেস নিলুফার জাহান। তার সহধর্মিনী একজন গ্রাজুয়ে। দাম্পত্য জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক, প্রথম সন্তান পুত্র মোঃ কৌশিক নাহিয়ান নাবিদ আইন শাস্ত্র নিয়ে পড়াশুনা শেষ করেছেন এবং দুই কন্যা যথাক্রমে নিমিলীতা ইসলাম আনিকা আইন শাস্ত্র (অনার্স) নিয়ে পড়াশুনা শেষ করেছেন ও অনামিকা ইসলাম প্রিয়ম।
জনাব নুরুল ইসলাম সুজনের বড় ভাই জনাব সিরাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের একজন বিশিষ্ট নেতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ¯েœহভাজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক ছিলেন। এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পঞ্চগড় দুই নম্বর আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদ এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে ৬নং সেক্টরে মুজিবনগর সরকারের বেসামরিক উপদেষ্টা এবং দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৮৬ সালে পঞ্চগড় ১ ও ২ আসন থেকে পর পর ৪ বার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

শিক্ষা জীবন
এ্যাডভোকেট মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন নিজ এলাকায় ময়দান দিঘী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে প্রাণীবিদ্যায় বিএসসি অনার্স এবং ১৯৭৯ সালে মৎস্য বিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৩ সালে এল,এল,বি ডিগ্রী এবং ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল হতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরবর্তীকালে তিনি ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হবার পর সুনামের সহিত দীর্ঘ ৩৩ (তেত্রিশ) বছর আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

রাজনীতি ও অন্যান্য
ছাত্রজীবনে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। জনাব এ্যাডভোকেট মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর ১৯৮০-৮১ সালের সংসদের বিজ্ঞান মিলনায়তন সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবনের অব্যবহিত পরেই জনাব সুজন আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সুপ্রীম কোর্ট শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এর যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তিনি যুব সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন ২০০৪ সালে পঞ্চগড় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হন এবং অদ্যবধি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন পেশা জীবনে আইনজীবী হিসেবে ১৯৯০-৯১ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সম্পাদক এবং ২০০৮-২০০৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ছিলেন এবং ঐতিহাসিক জেল হত্যা মামলারও বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। বড় ভাই মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ১৯৯৭ সালের ২রা জুন আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করার পর, জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি নবম জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বহু রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির সংস্কার বা নির্মাণ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এছাড়াও তিনি হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর এর রিজেন্ড বোডের্র সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা-এর সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১০ম জাতীয় সংসদের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বে-সরকারী সিদ্ধান্ত প্রস্তাব বিল এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে তিনি সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে জার্মানী, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মরোক্কো, সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, শ্রীলংকা, ইথিওপিয়া, সুদান, মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, হংকং, মরিশাস, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইন এবং সৌদি আরব সহ বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমন করেন।
গত ৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন তৃতীয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রীসভায় নিযুক্ত করেন এবং তিনি গত ৭ই জানুয়ারী ২০১৯ সালে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বর্তমান সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর মন্ত্রী হওয়ার পরই দেশের রেল যোগাযোগে আমুল পরিবর্তন আসে। দিনাজপুরে রেল যোগাযোগ, ভারতের সঙ্গে রেল লাইন স্থাপন, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ, মেট্রোরেল স্থাপনসহ সারা দেশ রেল যোগাযোগের আওতায় আসতে চলেছে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা ভিশন-২০২১ রূপকল্প বাস্তবায়নে জনাব নুরুল ইসলাম সুজন অঙ্গীকারবদ্ধ। অবসরে তিনি মৎস্য চাষ, বৃক্ষরোপন ও আপনজনদের মাঝে মৎস্য বিতরণ করে আনন্দ পান।