নেতাজি সোনার বাংলার প্রেরণা, আত্মনির্ভর বাংলা গড়তেই হবে: মোদী

36
Social Share

‘নেতাজির চরণে মাথা নত করছি’, ভোটের আগে বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে এ ভাষাতেই নেতাজি-স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, ‘নেতাজির অনুপ্রেরণায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নেতাজি বলেছিলেন, স্বাধীনতা চাই না, স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেব। নেতাজি আমাদের প্রেরণা, দেশের পরাক্রমের প্রতিমূর্তি। এই মহাপুরুষকে কোটি কোটি প্রণাম করছি, স্যালুট জানাচ্ছি’। পাশাপাশি নমো এদিন বঙ্গবাসীর মন জিততে চেষ্টার কম কসুর করেননি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘এই পুণ্যভূমি ভারতকে দেশপ্রেম শিখিয়েছে। এখানে লাখো লাখো মহান মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁদের সকলকে প্রণাম জানাচ্ছি’।

নেতাজি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম শুনলেই মনে শক্তিসঞ্চার হয়। কলকাতা ছিল নেতাজির কর্মভূমি’। নেতাজির উক্তি বাংলায় মোদীর গলায় শোনা গেল। ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেতাজি বলতেন, নিজের প্রতি সৎ হলে, বিশ্বের প্রতি অসৎ হতে পারবে না’। ‘আমার একটা কাজ করতে পারবে?’, শিশির বসুকে বলা নেতাজির এই কথাও বাংলায় বলেন নমো।

রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে মোদী বলেছেন, ‘নেতাজি সোনার বাংলার প্রেরণা। আত্মনির্ভর বাংলা করতে হবে। বাংলার গৌরব আরও বাড়াতে হবে। দেশের গৌরব বাড়াতে হবে। নেতাজির স্বপ্নপূরণের সংকল্প নিয়েছি আমরা’

নেতাজিকে স্মরণ করে মোদী এও বলেছেন, ‘দেশ সর্বদা আপনার প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবে। নেতাজি বলতেন, আমাদের কেবল একটা ইচ্ছা থাকা উচিত। আমাদের ইচ্ছে থাকলেই ভারত এগিয়ে যাবে। আত্মনির্ভর হবে এ দেশ। উনি বলতেন, স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন কখনও হারিয়ো না। এমন কোনও শক্তি নেই যে ভারতকে আত্মনির্ভরত ভারত গড়া থেকে রুখবে’।


করোনা পরিস্থিততে ভারত যেভাবে সামলেছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেছেন, ‘আজ যদি নেতাজি দেখতেন, যে ওঁর দেশ এতবড় মহামারী দৃঢ়ভাবে পরিচালনা করেছে, তাহলে উনি কতই না খুশি হতেন’।

অন্যদিকে, নেতাজির পাশাপাশি এদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, মেঘনাদ সাহা, জগদীশচন্দ্র বসু, এস এন বোস, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, প্রণব মুখোপাধ্যায়দের নাম নিয়েছেন মোদী। পাশাপাশি সারদা দেবী, শ্রীচৈতন্যদেবেরও নাম নিয়েছেন নমো। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে যে ভাষায় এদিন কলকাতায় এসে নেতাজিকে স্মরণ করলেন এবং বাংলার একাধিক মহান ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করলেন, তা রাজনৈতিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।