নাম ও শক্তিতে স্বতন্ত্র: যেভাবে ইংরেজি ভাষাকে নতুন রূপ দিয়েছে আমেরিকা

 

জয়ন্ত আচার্য
সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক

বিশেষ প্রতিবেদন

ভিনিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়েই পরিবর্তন আনেনি, বদলে দিয়েছে ইংরেজি ভাষার গতিপথও। ‘ডেডলাইন’ থেকে ‘লিচুয়েশন’, ‘প্রেইরি’ থেকে ‘অ্যামিরাইট’-নতুন নতুন শব্দ ও বাক্যাংশের সংযোজনের মধ্য দিয়ে আমেরিকান ইংরেজি গড়ে তুলেছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়। ব্রিটিশ ইংরেজির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষার বিকাশেও রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর কি সত্যিই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল নতুন ধরনের ভাষার? দেশটির তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন অন্তত তাই মনে করতেন। ১৮১৩ সালের আগস্টে বন্ধু জন ওয়ালডোকে লেখা এক চিঠিতে তিনি নতুন আমেরিকার ভাষাগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তখন যুক্তরাষ্ট্রের বয়স মাত্র ৩৭ বছর। জেফারসনের মতে, বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ ও শিল্পের বিকাশ ভাষার পরিসরও বাড়িয়ে দেবে। নতুন ও পুরোনো,
সব ধরনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষায় নতুন শব্দ, নতুন বাক্যাংশ এবং পুরোনো শব্দের নতুন ব্যবহার প্রয়োজন হবে।

তিনি মনে করতেন, ব্রিটিশ ইংরেজি স্থির থাকলেও আমেরিকান ইংরেজি নিজস্ব শক্তিতে বিকশিত হবে। একসময় ভাষার নাম ও শক্তি দুই দিক থেকেই তা মাতৃভাষা ব্রিটিশ ইংরেজি থেকে আলাদা হয়ে উঠতে পারে।

তবে আমেরিকান ইংরেজির এই স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নতুন ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার আগেই ব্রিটিশ লেখকদের অনেকে আমেরিকান শব্দ ও বাক্যাংশকে ইংরেজি ভাষার বিশুদ্ধতা নষ্ট করার প্রবণতা হিসেবে দেখতেন। ১৭৫৬ সালে বিখ্যাত লেখক স্যামুয়েল জনসন ‘আমেরিকান উপভাষা’কে ভাষার বিকৃতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

আজ একবিংশ শতাব্দীতেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মানুষ একই ভাষায় কথা বললেও উচ্চারণ, বানান, শব্দচয়ন ও প্রকাশভঙ্গিতে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ‘ফুটবল’-এর পরিবর্তে ‘সকার’ কিংবা ‘অটাম’-এর পরিবর্তে ‘ফল’ ব্যবহারের মতো উদাহরণ সেই পার্থক্যকে স্পষ্ট করে। দুই দেশের ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই এই ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য তৈরি হয়েছে।

নতুন পৃথিবীতে নতুন ভাষার জন্ম

আমেরিকায় ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ভাষার পরিবর্তন শুরু হয়। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের ভাষা, উচ্চারণ ও শব্দভান্ডারের মধ্যে পার্থক্য ছিল। তবে নতুন ভূখণ্ডে একসঙ্গে বসবাসের ফলে আঞ্চলিক ভাষার অনেক পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে আসে।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিদ জ্যাক গ্রিভের মতে, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ফলে প্রাথমিক উচ্চারণ ও শব্দ ব্যবহারের পার্থক্য অনেকটাই সমতল হয়ে গিয়েছিল। পরে তারা উত্তর আমেরিকার বিশাল ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে অঞ্চলভেদে নতুন উচ্চারণ ও শব্দচর্চার বিকাশ ঘটে। এভাবেই তৈরি হয় আজকের আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের স্বতন্ত্র উচ্চারণ।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে ভাষাগত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সচেতন প্রচেষ্টাও শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অভিধানপ্রণেতা নোয়া ওয়েবস্টার।

১৭৮৯ সালে তিনি লিখেছিলেন, একটি জাতীয় ভাষা হলো জাতীয় ঐক্যের বন্ধন। একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে ভাষার ক্ষেত্রেও নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁর মতে, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমেরিকার সরকারব্যবস্থার মতো ভাষারও নিজস্ব কাঠামো থাকা জরুরি। রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েবস্টার একের পর এক ব্যাকরণ, বানান শেখার বই ও অভিধান প্রকাশ করেন। আমেরিকান ইংরেজির বানানে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর উদ্যোগেই ‘honour’ ও ‘favour’-এর মতো শব্দ থেকে ‘u’ বাদ দিয়ে ‘honor’ ও ‘favor’ লেখা জনপ্রিয় হয়। ‘travelled’-এর পরিবর্তে ‘traveled’, ‘draught’-এর পরিবর্তে ‘draft’ এবং ‘centre’-এর পরিবর্তে ‘center’ ব্যবহারের প্রচলনও গড়ে ওঠে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের ভাষাবিদ লিন মারফির মতে, এসব বানান পরিবর্তন সহজে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের চর্চা ও প্রচেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত সেগুলো আমেরিকান ইংরেজিতে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। অবশ্য ওয়েবস্টারের সব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। তিনি ‘tongue’-এর পরিবর্তে ‘tung’ এবং ‘leather’-এর পরিবর্তে ‘lether’ বানানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এসব প্রস্তাব দ্রুতই পরিত্যক্ত হয়।

তবে তাঁর প্রকাশিত ‘আমেরিকান স্পেলিং বুক’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তী এক শতকে বইটির আনুমানিক ১০ কোটি কপি বিক্রি হয়েছিল, যা বিক্রির দিক থেকে বাইবেলের সঙ্গে তুলনীয়। আদিবাসী ও অভিবাসীদের ভাষায় সমৃদ্ধ আমেরিকান ইংরেজি

আমেরিকান ইংরেজির স্বাতন্ত্র্য শুধু বানান পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নতুন ভূখণ্ডের প্রকৃতি, প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পর্কে পরিচিত হতে গিয়ে আমেরিকানরা বিভিন্ন আদিবাসী ভাষা থেকে অসংখ্য শব্দ গ্রহণ করে।

ভাষাবিদ লিন মারফির ‘দ্য প্রডিগাল টাং’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্কাঙ্ক’, ‘র‍্যাকুন’, ‘চিপমাঙ্ক’, ‘মুজ’, ‘অপোসাম’ ও ‘ক্যারিবু’—এ ধরনের বহু শব্দ এসেছে অ্যালগনকুইয়ান ভাষাগোষ্ঠী থেকে।

এ ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষাও আমেরিকান ইংরেজিকে সমৃদ্ধ করেছে। যেমন ‘প্রেইরি’ শব্দটি এসেছে ফরাসি ভাষা থেকে। এর অর্থ জলাভূমি সংলগ্ন তৃণভূমি। অন্যদিকে ‘কুকি’ শব্দটির উৎস ডাচ ভাষার ছোট কেক বোঝানো একটি শব্দ।

সময়ের সঙ্গে আমেরিকায় তৈরি হওয়া কিছু শব্দ আবার ব্রিটিশ ইংরেজিতেও জায়গা করে নেয়। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ‘ডেডলাইন’। যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় শব্দটির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়। তখন এর অর্থ ছিল এমন একটি সীমারেখা, যা অতিক্রম করলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি ছিল। পরে শব্দটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কাজ শেষ করার শেষ সময় বোঝাতে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।

আমেরিকান শব্দের মধ্যেও লুকিয়ে আছে ব্রিটিশ ইতিহাস

আমেরিকান ইংরেজির অনেক শব্দ আসলে একসময় ব্রিটেনে প্রচলিত ছিল। পরে যুক্তরাজ্যে সেগুলোর ব্যবহার কমে গেলেও আমেরিকায় টিকে থাকে। যেমন ‘ফল’ শব্দটি দিয়ে শরৎকাল বোঝানোকে সাধারণত আমেরিকান বৈশিষ্ট্য মনে করা হয়। কিন্তু ষোড়শ শতক থেকেই ব্রিটেনে এ শব্দের ব্যবহার ছিল। ইংরেজ কবি জন ড্রাইডেনের কবিতাতেও ‘ফল’ শব্দটি শরৎকাল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

ভাষাবিদ লিন মারফির ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে শব্দটির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শরৎকালে সেখানকার ম্যাপল, ওকসহ বিভিন্ন গাছের পাতা লাল, কমলা ও হলুদ রঙে রূপান্তরিত হয়। ফলে ঋতুটিকে ‘ফল’ নামে অভিহিত করার প্রবণতা শক্তিশালী হয়।

এ ছাড়া ব্যাংকনোট বোঝাতে ‘বিল’, ফুটবলের পরিবর্তে ‘সকার’, রাগ বোঝাতে ‘ম্যাড’, বুদ্ধিমান বোঝাতে ‘স্মার্ট’ এবং অসুস্থতা বোঝাতে ‘সিক’—এসব শব্দের ব্যবহারও আমেরিকান ইংরেজিতে স্বতন্ত্র অর্থ ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

শব্দের সামাজিক মর্যাদাও দুই দেশে আলাদা হয়ে গেছে। মারফির মতে, যুক্তরাজ্যে প্রচলিত কোনো শব্দ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার করলে কখনো কখনো বক্তাকে গ্রাম্য বা সেকেলে মনে হতে পারে। যেমন ‘পিচার’-এর পরিবর্তে ‘জাগ’ ব্যবহার।
আমেরিকানরা পুরোনো কিছু ব্যাকরণগত রীতিও ধরে রেখেছে, যা ব্রিটিশ ইংরেজিতে অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এর একটি উদাহরণ ‘গটেন’। ব্রিটিশ ইংরেজিতে সাধারণত ‘গট’ ব্যবহার করা হলেও আমেরিকান ইংরেজিতে ‘গটেন’ বহুল প্রচলিত।

তবে দুই দেশের ভাষাগত সম্পর্ক কখনো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ধনী ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠাতেন। উনিশ শতক পর্যন্তও এই প্রবণতা বজায় ছিল। বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বইপত্রের আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগও দুই দেশের ভাষার মধ্যে সংযোগ ধরে রেখেছে।

মারফির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভাষার বিচ্ছিন্নতা ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, ভাষাগত বিভাজন যদি ৫০০ বছর আগে ঘটত, তাহলে হয়তো আজ দুই দেশের মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষায় কথা বলত। কিন্তু ছাপাখানার প্রচলন এবং দুই দেশের মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ভাষাকে পরস্পরের কাছাকাছি রেখেছে।

‘আন-আমেরিকান’ পরিচয়ের বিদ্রূপ

ব্রিটিশ প্রভাব ধরে রাখা এবং নিজস্ব আমেরিকান পরিচয় প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্ব উনিশ শতকের সামাজিক আলোচনায়ও স্পষ্ট ছিল। জার্মানির কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইনগ্রিড পলসেন উনিশ শতকের ৭ কোটি ৮০ লাখ সংবাদপত্রের নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, কীভাবে আমেরিকান শব্দ ও ভাষার ব্যবহার জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছিল।

‘ট্রাউজার্স’-এর পরিবর্তে ‘প্যান্টস’ এবং ‘লাগেজ’-এর পরিবর্তে ‘ব্যাগেজ’ ব্যবহারের মতো পরিবর্তন নিয়ে সে সময় নানা আলোচনা ও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হতো। এসব ব্যঙ্গচিত্রে প্রায়ই ‘ডিউড’ নামে এক ধরনের আমেরিকান পুরুষ চরিত্র দেখা যেত। সে আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলেও পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভাষায় ব্রিটিশদের অনুকরণ করতে চাইত। গবেষক পলসেনের ভাষায়, এই চরিত্রটি ছিল এমন একজন ব্যক্তি, যে নিজের আমেরিকান পরিচয় গ্রহণ করতে ব্যর্থ এবং ব্রিটিশ সংস্কৃতির প্রতি অতিরিক্ত অনুরক্ত।

তার পোশাক ও ভাষা নিয়ে বিশেষভাবে বিদ্রূপ করা হতো। ‘ট্রাউজার্স’ শব্দের ব্যবহারকে ব্রিটিশ প্রীতির প্রতীক হিসেবে দেখানো হতো। অন্যদিকে ‘প্যান্টস’ হয়ে উঠেছিল প্রকৃত আমেরিকান পরিচয়ের প্রতীক। ব্রিটিশ সাহিত্যিকরাও দুই দেশের ভাষাগত পার্থক্য নিয়ে কম রসিকতা করেননি। ১৮৮৭ সালে অস্কার ওয়াইল্ড বলেছিলেন, ‘আজকাল আমেরিকার সঙ্গে আমাদের প্রায় সবকিছুতেই মিল রয়েছে, শুধু ভাষা ছাড়া।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন শব্দের বিস্তার

ভাষার বিবর্তন এখনো থেমে নেই। বরং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নতুন শব্দ তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করেছে। ২০১৮ সালে ভাষাবিদ জ্যাক গ্রিভ ২০১৩ ও ২০১৪ সালের টুইটারের বিপুল পরিমাণ ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে বেশি নতুন শব্দ তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করেন।

তাঁর গবেষণায় দেখা যায়, নতুন শব্দ তৈরিতে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল। ‘অ্যামিরাইট’ এবং ‘কসপ্লে’-এর মতো শব্দ সেখানে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এরপর রয়েছে ডিপ সাউথ বা দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা। সেখান থেকে এসেছে ‘বুলিন’, যার অর্থ আরাম করা বা সময় কাটানো, এবং ‘বেলেস’, যার অর্থ সঙ্গীহীন বা অবিবাহিত।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তৈরি হয়েছে ‘লিচুয়েশন’ শব্দটি। ‘লিট’ ও ‘সিচুয়েশন’ শব্দের সমন্বয়ে তৈরি এই শব্দ দিয়ে খুব ইতিবাচক বা জমজমাট পরিস্থিতি বোঝানো হয়।

মিড-আটলান্টিক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়েছে ‘শর্টি’, যা খাটো গড়নের কাউকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে উপসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলে ‘লর্ডট’ শব্দটি বিস্ময় বা আবেগ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

গ্রিভের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অঞ্চলে নতুন শব্দ তৈরির প্রবণতা বেশি, সেসব অঞ্চলে আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর ঘনত্বও তুলনামূলক বেশি। তাঁর ধারণা, সামাজিক পরিচয় প্রকাশের তাগিদ থেকে এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাষাগত সৃজনশীলতা বেশি হতে পারে।

আমেরিকান ইংরেজিতে নতুন ব্যাকরণগত গঠনও তৈরি হচ্ছে। এর একটি উদাহরণ ‘ডাবল মডাল’। সাধারণত একটি বাক্যে একটি সহায়ক ক্রিয়া ব্যবহৃত হলেও এই রীতিতে দুটি সহায়ক ক্রিয়া একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। যেমন, ‘উই মাইট ক্যান গো আপ দেয়ার নেক্সট স্যাটারডে’ অর্থাৎ, আগামী শনিবার হয়তো আমরা সেখানে যেতে পারি।

গ্রিভের টুইটারভিত্তিক বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ভাষাগত রীতির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়েছে। এর আগে ভাষাবিদদের ধারণা ছিল, এটি মূলত স্কটিশ ও আইরিশ অভিবাসীদের প্রাচীন ভাষার অবশিষ্টাংশ। এই নতুন শব্দ ও ভাষারীতি ভবিষ্যতে পুরো আমেরিকায় কিংবা আটলান্টিক পেরিয়ে যুক্তরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। তবে প্রযুক্তি ভাষার নতুন প্রবণতাগুলোকে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

জেফারসন একসময় ধারণা করেছিলেন, আমেরিকান ইংরেজি একদিন তার মাতৃভাষা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আজ সেই সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে হয়। বরং নতুন শব্দ, উচ্চারণ ও প্রকাশভঙ্গির সংযোজন ইংরেজি ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের ভাষায় যেমন মিল রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্র্য। আর সেই বৈচিত্র্যই প্রমাণ করে, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজ ও আত্মপরিচয়েরও প্রতিফলন।

-বিবিসি অবলম্বনে

পূর্বের খবরসিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!