নাটোরে বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৫২ হাজার কর্মহীন পরিবার

Social Share

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সৃষ্ট দূর্যোগে বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এসেছে জেলার ৫২ হাজার দুস্থ ও অতিদরিদ্র কর্মহীন পরিবার।

আজ সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পাঁচজন উপকারভোগীর হাতে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার অর্থ সহায়তা তুলে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলা এবং আটটি পৌরসভা পর্যায়ে মোট ৫২ হাজার দুস্থ ও অতিদরিদ্র কর্মহীন কর্মজীবী ব্যক্তি বা পরিবারের তালিকা পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটি।

কর্মসূচির আওতায় নাটোর সদর উপজেলায় আট হাজার ৫০৪ জন উপকারভোগী, সিংড়ায় নয় হাজার ৪৩২ জন, বড়াইগ্রামে সাত হাজার ২৪৪ জন, লালপুরে সাত হাজার ৯৮ জন, গুরুদাসপুরে পাঁচ হাজার ৫৬৪ জন, বাগাতিপাড়ায় তিন হাজার ৩৯০ জন ও নলডাঙ্গা উপজেলায় দুই হাজার ৯৬৮জন।

এছাড়া নাটোর পৌরসভায় দুই হাজার ৭২৪ জন উপকারভোগী, সিংড়া পৌরসভায় এক হাজার ১৯৮ জন, গুরুদাসপুরে ৮৪৪ জন, বনপাড়ায় ৭৪৭ জন, গোপালপুরে ৭৪৬ জন, বড়াইগ্রামে ৬৩৩ জন, বাগাতিপাড়ায ৪৯৬ জন এবং নলডাঙ্গা পৌরসভায় ৪১২ জন উপকারভোগী রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর-২ আসনের (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রতœা আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহাসহ জনপ্রতিনিধি এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বাসস’কে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট দূর্যোগে শহর ও গ্রামে ভাসমান মানুষ, বস্তিবাসী, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ব্যক্তি, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, বেকার শ্রমিক গণপরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চা দোকানদার দিনমজুর, রিক্সা ও ভ্যান চালক স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা নারী, বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়, পথশিশু এবং নিম্ন আয়ের লোকসহ দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে জীবিকা নির্বাহকারী বিভিন্ন পেশার সাধারণ জনগোষ্ঠির যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই পর্যায়ের জেলার মোট ৫২ হাজার জনগোষ্ঠির মধ্যে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করে মোট ১৩ কোটি টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে।