নন্দীগ্রামে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন?

29
Social Share

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস বিপুলসংখ্যক আসন পেয়ে জিততে যাচ্ছে, কিন্তু দলের প্রধান নেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী একমাত্র যে আসনটিতে ভোটে লড়েছেন, সেই নন্দীগ্রামে তিনি বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রামে ভোট পূনঃগণনার দাবি জানিয়েছে, কিন্তু বিধানসভায় কোন আসনে বিজয়ী না হলে একজন প্রার্থীর কি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকে?

ভারতের ১৯৫১ সালের জন-প্রতিনিধিত্ব আইন বলছে, কোন দল সরকার গঠন করলে এবং সেই দলের নির্বাচিত সদস্যরা যদি কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করে, সেক্ষেত্রে তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাবেন।

সেই হিসেবে এখন তৃণমূলের বিধায়কদের স্বাক্ষরিত চিঠি রাজ্যপালের অনুমতি বা সাক্ষর নিয়ে তিনি রাজ্যের প্রধান হতে পারবেন।

তবে এভাবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন ১৮০ দিন বা ছয় মাস।

এই সময়সীমার মধ্যে তাকে কোন একটি আসনে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। নয়তো ছয় মাস পর ছেড়ে দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ।

নির্বাচনের আগে হুইল চেয়ারে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন
নির্বাচনের আগে হুইল চেয়ারে বসে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী

অর্থাৎ তৃণমূলের কোন একজন বিধায়ককে এখন পদত্যাগ করতে হবে।

এরপর ঐ আসনে নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচন দেবেন। সেখান থেকে মমতা ব্যানার্জীকে জিতে আসতে হবে।

মমতা ব্যানার্জী এর আগে ২০১১ সালে ভোটে অংশ না নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তখন তিনি ভারতের রেলমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

পরে ভবানীপুরে তৃণমূলের বিধায়ক সুব্রত বকশী পদত্যাগ করেন, এবং সেই আসনে উপনির্বাচনে জিতে এসে মুখ্যমন্ত্রীর পদ পোক্ত করেন তিনি।

অবশ্য তৃণমূলের কোন বিধায়কের পদত্যাগ ছাড়াও উপনির্বাচনে জিতে আসার সুযোগ আছে মমতা ব্যানার্জীর।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯২টিতে ভোট হয়েছে এবার। বাকী দুটিতে ভোট হয়নি একজন করে প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায়।

ফলে ওই দুটো আসনে উপনির্বাচন দিতেই হবে নির্বাচন কমিশনকে।

সে দুটো আসনের যে কোন একটিতে ভোটে লড়ে জিতে এসেও মুখ্যমন্ত্রীত্ব পোক্ত করতে পারেন মমতা ব্যানার্জী।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জী যে আসন থেকে ভোটে লড়েছেন সেখানে আবার নতুন করে ভোট গণনার দাবি করেছে তার দল।

তৃণমূল রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করেছে যে ভোট গণনায় নানা ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করা হচ্ছে।