নতুন বছরেই মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল কার্যকর

Social Share

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে পাচার সংক্রান্ত মামলাগুলো পৃথকভাবে পরিচালনার জন্য বিদ্যমান আইনের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের আটটি বিভাগে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন বছরেই বিচার কার্যক্রম শুরু হবে এই ট্রাইব্যুনালগুলোতে।

আজ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। পার্টিসিপেশন অব চাইল্ড ট্রাফিকিং থ্রো কমিউনিটি স্ট্রেনদেনিং অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং (পিসিটিএসসিএন) আয়োজিত  বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী।

আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌসি আক্তার, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, জাতীয় আইনি সহায়তা সংস্থার পরিচালক সিনিয়র জেলা জজ মালিক আব্দুল্লাহ আল-আমিন, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, পিসিটিএসসিএন’র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান আলম, অ্যাডভোকেট রাবেয়া আফরোজ প্রমুখ।

মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌসি আক্তার বলেন, কোন একক দেশের পক্ষে মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। এটা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। রোহিঙ্গারা আসার কারণে এই সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, পাচার সমস্যা সমাধানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পদক্ষেপের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। পাচার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরনো মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে উল্লেখ করে যুগ্ম সচিব এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দ্রুতই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হবে। এ বিষয়ে সরকারের আটটি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এই ট্রাইব্যুনালগুলো জেলা ও দ্বায়রা আদালত এলাকার বাইরে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগের ট্রাইব্যুনালটি প্রবাসী কল্যাণ ভবনে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী মাসেই জনবল নিয়োগের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, মানব পাচার বন্ধে নতুন নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র, মহিলা ও শিশু এবং আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকার কাজ করছে। এ কারণে পাচার আগের থেকেও কমে এসেছে। কিন্তু কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সারা দেশে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।