নতুন ধরনের করোনা মিলল চট্টগ্রামে

13
Social Share

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসের নতুন ৬টি রূপের মধ্যে বাংলাদেশে একটি মিল পেয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। অন্তত ৪৬টি নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ৩৩টি জিনোম সিকোয়েন্স চিহ্নিত করার পর এই মিল পান তারা। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে, নতুন এই ভাইরাস প্রতিরোধে চট্টগ্রামে বন্দর এবং বিমানবন্দর ভিত্তিক বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ জুলাই মাস থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি নানা ধরণের গবেষণা করে আসছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। এতে উঠে আসে চট্টগ্রামেই করোনা ভাইরাসটির ১২৬টি পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ছিল বড় ধরনের পরিবর্তন। আর এসব পরিবর্তনের একটি রূপ পাওয়া গেছে যা সম্প্রতি ব্রিটেনে পাওয়া নতুন উপাদান পি-সিক্স-এইট-ওয়ান-এইচ। ব্রিটেনে ৬টি উপাদানে নতুন সংক্রমণ শুরু হলেও চট্টগ্রামে পাওয়া গেছে মাত্র একটি। তাই এ নিয়ে এখনো আতংকিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন গবেষণা দলের এই সদস্য।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক রাসেল বলেন, ‘পি-সিক্স-এইট-ওয়ান-এইচ এই মিউটেশনটি যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন করোনা ভাইরাসের যে স্ট্রেন সেই স্ট্রেনের অনেকগুলো মিউটিশনের একটি।’

চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ টি জেলা থেকেই পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছেন এই দলের সদস্যরা। এর মধ্যে নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুর দিকের নমুনায় এক রোগীর মধ্যে আলোচিত পি-সিক্স-এইট-ওয়ান-এইচ উপাদান পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এইচ এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের যে নতুন ভাইরাসটির নতুন স্ট্রেনের কথা বলা হচ্ছে সেটার মধ্যে নতুন যে ১৭টি পরিবর্তন তারা রিপোর্ট করেছে তার মধ্যে ৬টা পরিবর্তন এবং দুটা ডিলেশন আছে। তার মধ্যে একটা নমুনায় আমরা যে জিনোম সিকোয়েন্স পেয়েছি তার মধ্যে ১টা মিউটেশন ওই ৬টা মিউটেশনের একটা।’

করোনা ভাইরাসের নতুন এ উপাদান যাতে ব্যাপকভাবে ছড়াতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বিমান বন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের  চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বিশেষ কয়েকটি দেশে যে নতুন ধরনের স্ট্রেন পাওয়া গেছে সেসব দেশ থেকে যারা আসবে তাদের জন্য আমরা কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করছি এবং তাদের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষণায় আক্রান্তদের নমুনায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইটালি, সৌদি আরব এবং ভারত ও জাপানের নমুনার সাথে অনেকটা মিল পাওয়া গেছে।