নওগাঁয় সাথী ফসল চাষ করে ২৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন কৃষক শামিম

48
Social Share

জেলার বদলগাছি উপজেলায় এক কৃষক তার ৩ বিঘা জমিতে পটলের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে সীম এবং আদা উৎপাদন করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন। এলাকার অনেক কৃষক এ রকম কৃষি উৎপাদনে এখন উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, জেলার বদলগাছি উপজেলাধীন বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন বাবু তার ৩ বিঘা জমিতে চলতি মওসুমে পটল-এর সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে সীম এবং আদা চাষ করেন। পুরো জমিতে জাংলা দিয়ে পটল এবং সীম চাষ করেন। জাংলার নিচে জমিতে আদা রোপন করেন। ইতিমধ্যে পর্যায়ক্রমে উৎপাদিত পটল এবং সীম বিক্রি শেষ হয়েছে। সেসব পটল এবং সীমের গাছ কেটে দেয়া হলে বর্তমানে কেবল আদা গাছ রয়েছে। এই চৈত্র মাসের মধ্যে সে আদা জমি থেকে উত্তোলিত হবে।
কৃষক শামীম হোসেন বাবু জানিয়েছেন, বদলগাছি কৃষি কর্মকর্তার সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং তত্বাবধানে সমন্বিত এই ফসল উৎপাদনে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ১৪ লাখ টাকার সীম এবং পটল বিক্রি করেছেন।
এদিকে, ওই কৃষক এই ৩ বিঘা জমি থেকে প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ৮০ মন হিসেবে ২৪০ মন আদা উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন। বর্তমান বাজার মুল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি আদা ১২৫ টাকা হিসেবে তার উৎপাদিত আদার বিক্রি মুল্য দাঁড়াবে ১২ লাখ টাকা বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
এই গ্রামেরই কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও কৃষক কুবের আলী তার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে দারুনভাবে উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারাও একইভাবে সমন্বিত ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
নওগাঁ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন- পটল, সীম এবং আদা এই তিন ফসলের জন্যই তেমন কোন সেচ প্রয়োজন হয় না। আবার পোকামাকড়ের আক্রমণও তেমন নাই। কৃষি বিভাগ আরও বলেছে বদলগাছি উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং তত্বাবধানে বদলগাছির মহেশপুর গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন বাবু এই অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন। এই সম্ভাবনার আলোকে যে সব কৃষক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তাদের কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি জানান।