ধান-চাল সংগ্রহের সময় দুর্নীতিতে জড়াবেন না : খাদ্যমন্ত্রী

52
Social Share

সরকারি গুদামের মজুত বাড়াতে খাদ্যশস্য ক্রয়ে গতি ত্বরান্বিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর মিন্টো রোডস্থ সরকারি বাসভবন থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সাথে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ সংক্রান্ত অনলাইন মতবিনিময় সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের সঠিক দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এবার কৃষক বোরোতে ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে। এই বাজারদর ধরে রাখতে সরকারি সংগ্রহের গতি বাড়াতে হবে। এছাড়া নির্দেশ মোতাবেক খাদ্যশস্যের মান যাচাই করে সংগ্রহ করতে হবে। ধান-চাল কেনায় কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নে্রয়ারও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, চাল সরবরাহের সময় বস্তার গায়ে খাদ্যগুদামের নাম, তারিখ ও কোন খাতে (খাদ্য বান্ধব, ওএমএস, টিআর, কাবিখা) এটা স্পষ্ট স্টেনসিলের মাধ্যমে অমোচনীয় কালি দিয়ে লিখতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্য অধিদপ্তর এবং এর মাঠপর্যায়ের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ওসিএলএসডি-সহ সকল কর্মচারী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন- এ জন্য মন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ধান-চাল সংগ্রহের সময় কোনো কৃষকের সঙ্গে অসদাচারণ করবেন না; দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হবেন না।

চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুন; এই করোনাকালীন সময়ে মানুষকে সেবা করার উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, আপনারা সরকারের তালিকাভুক্ত; সবসময় সরকার আপনাদের নিকট হতে চাল ক্রয় করে এবং এবারও আপনারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চালকল মালিকদের চুক্তি মোতাবেক সঠিক সময়ে চাল দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার করোনা মোকাবিলা পরিস্থিতি, চলতি বোরো ধান কাটা-মাড়াই, সরকারিভাবে ধান চাল সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, এবারের প্রকিউরমেন্ট যেন কৃষকবান্ধব প্রকিউরমেন্ট হয়। চালের মান নিয়ে কোনো আপোস নেই। তিনি বলেন, কোনো কৃষক যেন তার স্লিপ মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের নিকট বিক্রি না করেন।

ভিডিও কনফারেন্সে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, মিল মালিক প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।