ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠি কলকাঠি নাড়ছে : হানিফ

86
ধর্মীয় সম্প্রীতি
Social Share

ধর্মীয় সম্প্রীতি –আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াত ইসলামী নামের অপরাজনৈতিক দল পাকিস্তানের দোসর হয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল। তাদের ছত্রছায়ায় আজ দেশে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠি আস্ফালন দেখাচ্ছে। আর সকল ধর্মের মানুষের সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য বিএনপি কলকাঠি নাড়ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে লালন ফকিরের ১৩১তম তিরোধান দিবস উপলেক্ষ্যে একাডেমির মিলনায়তনে লালন স্মরণোৎসব, সম্মাননা প্রদান এবং ৩১তম সাধুমেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

হানিফ বলেন, বিজয়া দশমী পার হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শারদীয় দুর্গাপূজা উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে পালন করেছেন। আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি। মানুষ মানুষের জন্য কাজ করবে। কিন্তু দেশে আজ হানাহানি করে মানুষকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। প্রত্যেক ধর্মে কল্যাণের কথা বলা হয়েছে, অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার কথা হয়েছে। ধর্মের বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে। আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশ স্বাধীন করেছি। সকল ধর্মের মানুষের রক্তে ভেজা মাটি এই বাংলাদেশ। কোনো গোষ্ঠি একা যুদ্ধ করেনি। কোনো এক গোষ্ঠীর আস্ফালনে মানুষের জীবন বিপন্ন হবে, সমাজ কলুষিত হবে। তাদের কু-কর্ম বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় থাকতে হানাহানি, খুনোখুনি, লুটতরাজ, সম্পত্তি দখল ছাড়া কিছুই করতে পারেনি তারাই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য মদদ দিচ্ছে। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি বাধাগস্ত করা এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য বিএনপি পেছন থেকে মদদ দিচ্ছে। এসব বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, তথাকথিত মাদরাসা শিক্ষার উপর ভিত্তি করে দেশ বিখ্যাত হয়েছেন তারা বিদেশি শক্তির প্ররোচণায় এবং আমাদের দেশের কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের কু-প্ররোচণায় সমাজে হানাহানি সৃষ্টি ও পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য মন্দিরে হামলা চালাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, এই বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি আছে, শত বছরের কৃষ্টি আছে। আমরা যাত্রা, পালাগান, জারি-সারি, পল্লী গীতি, লোক সংস্কৃতির চর্চা করে এসেছি। আজ আমরা কোথায় চলে এসেছি। সমাজকে হীন মানসিকতা, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত করতে হলে আমাদের লালন সাই যে আদর্শ প্রচার করে গেছেন তা ধারণ করতে হবে। তার বাণীকে অনুধাবন করতে হবে।

স্বাধীন রাষ্ট্রে যারা অপকর্ম করতে চান তাদের পাকিস্তান চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে হানিফ বলেন, শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশ। কবি নজরুল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলাদেশ, মীর মোশাররফের বাংলাদেশ, লালন সাইয়ের বাংলাদেশে আমরা সম্প্রীতি বজায় রাখবো। এটাই আমাদের মূল চেতনা। এ-ই দেশে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প বরদাশত করা হবে না। সম্প্রীতি বিনষ্ট কাজ করে এমন অপশক্তির ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. আছাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফকির নহীর শাহ ও দেবোরাহ জান্নাত।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চেীধুরী ও ভারতের অধ্যাপক ড. শক্তিনাথ ঝা’কে লালন গবেষণায় সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়া লালন সাধনায় ভারতের পার্বতী দাস বাউল, কুষ্টিয়ার ফকির মোহাম্মদ আলী শাহ, ফরিদপুরের ফকির আজমল শাহ, মাগুরার নিজাম উদ্দিন লালনী এবং ঠাকুরাগাঁওয়ের গুরু বালা রায়’কে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়।