ভাসানচরে যেতে দ্বিতীয় দফায় ১৩টি বাসে করে রওনা দিয়েছে উখিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা

4
Social Share

কক্সবাজার প্রতিনিধি: আজ সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচর নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের একটি দল স্বেচ্ছায় ভাসানচরের উদ্দেশে ক্যাম্প ছেড়েছেন। ১৩ টি বাসে করে তারা চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সেখান থেকে আগামীকাল তারা ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আগের মতো উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকা থেকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে উদ্দেশে ছেড়ে যায়। প্রতিটি বাসে প্রায় ৫০ জন করে রোহিঙ্গা আছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে উখিয়ার মূল ক্যাম্প ছাড়াও পুরো ৩৪ ক্যাম্প থেকেই ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা ট্রানজিট পয়েন্টে এসে জড়ো হয়েছে। এখন তাদের ভাসানচরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তবে প্রথমবারের মতো এবারো রোহিঙ্গাদের ভাসানচর যাত্রা নিয়ে প্রশাসনের কেউ মুখ খুলছেন না। তবে, গতবারের মতো এবারও র‍্যাব-১৫ এবং অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বলে একটি সূত্র জানিয়ে।

সূত্র মতে, স্বেচ্ছায় যারা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তাদেরই কেবল স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে একাধিক কাপড়ের প্যান্ডেল ও বুথ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম যাত্রাতেও এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কেউ মুখ খুলতে চাননি। দ্বিতীয় দফেও একই ভাবে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলছেন না তারা।

আগে থেকে প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা ও খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে। উখিয়া ডিগ্রী কলেজের মাঠ থেকে তিন ধাপে ৩০টি বাস ও ২০টি ট্রাকে করে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হবে তাদের। ওখান থেকে পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হবে।

এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম যাত্রায় এক হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছেন। আগে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে সমুদ্র উপকূলে আটক আরো তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে রাখা হয়েছিল। এদের মাধ্যমে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা ভাসানচরের সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা।