দৈনিক চার-পাঁচজনের বেশি রোগী দেখেন না, চিকিৎসকদের দাবি

দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের প্রায় অর্ধেকই হিসাবমতো রাজস্ব পরিশোধ করছেন না বলে উঠে এসেছে কর অঞ্চল-১০-এর এক প্রতিবেদনে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নির্দেশে চলতি অর্থবছর এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও কর অঞ্চল-১০ যৌথভাবে চিকিৎসকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

কর অঞ্চল-১০ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে অনেক চিকিৎসককে এনবিআর দপ্তরে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রতিদিন বা মাসে গড়ে কতজন রোগী দেখছেন এবং কত করে নিচ্ছেন তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ নামিদামি চিকিৎসক এ সময় এনবিআর কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তাঁরা দৈনিক চার-পাঁচজনের বেশি রোগী দেখেন না। এ সময় এনবিআরের তদন্ত কর্মকর্তারা ওই চিকিৎসকের সামনেই তাঁর কাছে রোগী দেখানোর জন্য তাঁর চেম্বারে ফোন করলে জানা হয় আগামী ১৫-২০ দিন বা এক মাসে কোনো সিরিয়াল দেওয়া যাবে না। তখন ওই চিকিৎসক জানান, তিনি পাঁচজনের কাছ থেকে অর্থ নিলেও অন্যদের বিনা পয়সায় দেখেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নামিদামি চিকিৎসকদের কাছে সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে তাঁদের মধ্যে সুস্পর্ক গড়ে ওঠে। এনবিআর থেকে হিসাবমতো রাজস্ব আদায়ের জন্য যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে রাজস্ব পরিশোধে চাপ না দিতে তদবির করান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকিবাজ চিকিৎসক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছেও সঠিক তথ্য দেন না।

এছাড়া হাসপাতালের সঙ্গে যোগসাজশে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। রোগী দেখার জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই চিকিৎসকদের অনেকে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কতজন রোগী দেখবেন তার প্রকৃত তথ্য কোথাও সরবরাহ না করার শর্ত দেন। হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রসারের স্বার্থে তা মেনে নিয়ে থাকে বলে এনবিআরের তদন্তে উঠে এসেছে।