দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় ৪২ জন মারা গেছেন, নতুন আক্রান্ত ৩,১১৪

Social Share

দেশে করোনা শনাক্তের ১১৮তম দিনে গত ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
গতকালের চেয়ে আজ ৪ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৯৬৮ জন।

শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিনও এই হার ছিল ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ হাজার ৬৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ১১৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ৯০৫ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ১৯ জন।
তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৭টি নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের দশমিক ৬৩ শতাংশ কম।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬০৬ জন। গতকালের চেয়ে আজ ২ হাজার ৭২৮ জন কম সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ৪ হাজার ৩৩৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৮ হাজার ৪৮ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৮১টি। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৭ হাজার ৯৪৭টি। গতকালের চেয়ে আজ ৩ হাজার ১৬৬টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৬৩টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫০টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৮ হাজার ৩৬২টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৩ হাজার ৭১২টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। বয়স বিবেচনায় ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৭ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ৩ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১১ জন। অঞ্চল বিবেচনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১ জন এবং খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে ৩ জন করে রয়েছেন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৪৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৯০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৭১ জন এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সে ৮৫৫ জন।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪৯টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৪০৩টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ১৪১টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ২০৭টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৯৮টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৭০৮ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২০৯ জন এবং ২৪ ঘন্টায় সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৫৭৮ জন, ছাড় পেয়েছেন ৬৬৭ জন।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে আনা হয়েছেন ৮৭৭ জন, মুক্ত হয়েছেন ৬৮৭ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ২৯ হাজার ৩৭৯ জন, আর আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৩২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৯৪৭ জন।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭১৪ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯০৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৬৬ জন। এ পর্যন্ত মোট মুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৮ হাজার ৩৪৭ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৫৫৬ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৫ হাজার ৩শ’টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৫ লাখ ২৮ হাজার ২৪৫টি। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৪ লাখ ৭ হাজার ৩৬৪টি। বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজার ৮৮১টি পিপিই মজুদ রয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮১৩টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫৭টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪১৪ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ১৮২ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৪০ হাজার ১০২ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৮২৯ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৫ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৩৪ জন এবং এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৭৬৯ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১০২ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৯ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৭৮৭ জন এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১২ হাজার ৮৪২ জন বলে তিনি জানান।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।