দেশে করোনা আক্রান্ত দেড় লাখ ছাড়িয়েছে, আজ শনাক্ত ৪,০১৯ জন

Social Share

দেশে করোনা শনাক্তের ১১৭তম দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জন।
এদিকে দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮ হাজার ৩৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক ৪ হাজার ১৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল ২৯ জুন। ওইদিন শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ১৪ জন। গতকালের চেয়ে আজ ২৪৪ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৭ হাজার ৮৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার ৭৭৫ জন।
নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২১ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৮ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৩ জন কম মারা গেছেন। গতকাল ৪১ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এই পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৯২৬ জন।
শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিনও এই হার ছিল ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
তিনি জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৪ জন। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৮৫০ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ২ হাজার ৪৮৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৪২ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪১ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৭টি । আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৯৮টি। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৪৯টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৭০টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৬২টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৭ হাজার ৮৭৫টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৪৮৭টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ লাখ ২ হাজার ৬৯৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতর তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল তিন হাজার ৬৫টি, এপ্রিলে ৬২ হাজার ৮২৬টি, মে মাসে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯টি এবং জুনে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩০টি। জুন পর্যন্ত সব মিলে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ১ ও ২ জুলাইসহ এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২ হাজার ৬৯৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ক্রমান্বয়ে আমরা নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়িয়ে চলছি।’
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪৫টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯২টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ১৪১টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ২০৭টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৯৮টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৬১৮ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২১০ জন এবং ২৪ ঘন্টায় সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৫১৮ জন, ছাড় পেয়েছেন ৭৩৬ জন।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, বরিশাল বিভাগে ২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৩ জন এবং বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৯৬০ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৭৫৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৭৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৭৫ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশন করা হয় ২৮ হাজার ৫০২ জনকে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৮৯৪ জনকে। এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ১৬৮ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৮১ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৬০৮ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৪ হাজারটি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৫ লাখ ২৮ হাজার ২৪৫টি। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৪ লাখ ২ হাজার ৬৪টি। বর্তমানে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮১টি পিপিই মজুদ রয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৩টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৪টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪১৪ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ৪ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ৪৬৪ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৭৫ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৮ হাজার ৯০৬ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৪২ জন এবং এ পর্যন্ত ২২ হাজার ২৩৫ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৩৯ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬২ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ১৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৮ হাজার ৫৫ জন বলে তিনি জানান। বুলেটিন উপস্থাপনের শুরুতে অধ্যাপক ড. নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশের অনেক এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা শুরু হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেষ্ট এবং কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরও কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় খাবারসহ সব ধরনের স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।