দেশের সমৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে প্রকৌশলীরা

2
Social Share

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের সমৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকেৌশলীদের ভূমিকা রয়েছে।  প্রকৌশলীদের পেশাগত উন্নয়নে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এই মন্ত্রণালয় দশ বছর আগে কোথায় ছিল, আজ কোথায় এসেছে। আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিশাল কার্যালয় হয়েছে। আধুনিক সড়ক ও সেতু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিদেশ ভ্রমণ ও অফিস নির্মাণে আকর্ষণ বেশি। আমি অনেক চেষ্টা করেও এ বিষয়টি কমাতে পারিনি। তবে করোনার কারণে বিদেশ ভ্রমণ কমেছে। অফিস না করে রাস্তা, সড়ক ও সেতুর উন্নয়ন করুন। সড়কের শৃঙ্খলার বিষয়ে কাজ করুন।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ  প্রকৌশলী সমিতির ১ম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২০ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি আগেও প্রধান  প্রকৌশলীকে বারবার বলেছি এক্সেল লোড স্টেশনগুলো স্থাপন করুন। এটা আপনার একমাত্র কাজ। আমি এ কাজটাই চাই। কিন্তু সেটা আজ পর্যন্ত মুখেই রয়েছে, কাজ হয়নি। লোড স্থাপন না থাকায় অতিরিক্ত ভারী পরিবহনের জন্য সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা আমরা অনেক নির্মাণ করেছি, সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত এখন আমাদের রাস্তা। এখন সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। আমাদের প্রকৌশলীরা অনেক দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ করছে, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন সড়ক সেই দৃষ্টান্ত। আমরাও পারি এবং আমাদের  প্রকৌশলীরাও পারেন সেটার প্রমাণ মিঠামইন অষ্টগ্রামের রাস্তায় পাওয়া গেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকৌশলীরা আপনারা কাজে মনযোগ দেন। কেউ গাফিলতি করলে সহ্য করা হবে না। আমি দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চাই। আমাদের রাস্তাগুলো নির্মাণ হচ্ছে কিন্তু দেখা যায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর বৃষ্টি হলেই ফাটল দেখা দেয়। রাস্তার মান খারাপ হলে সংশি্লষ্ট প্রকৌশলী ঠিকাদার ও মনিটরিং কর্মকর্তা কেউ দায় এড়াতে পারবেন না। দায়িত্বরত প্রকৌশলী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে। এটা বন্ধ করতে হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির কথা ভেবে কাজ ফাঁকি দিয়ে বসে থাকবেন, সেটা নিয়ে বসে থাকলে হবে না। বছরে ৮-৯ মাসই বৃষ্টি থাকে। যুক্তরাজ্যে যে আবহাওয়ায় সড়ক নির্মাণ করা হয়, সেটা অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। সড়কে একটা গর্ত থাকলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করে দেবেন, তাহলে সেটা বড় হবে না। কেউ ফাঁকিবাজি করবেন না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় তথা সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের প্রকেৌশলীদের অনেক অর্জন আছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সময়োপযোগী টেকসই উন্নয়ন। এখানে যে মেধাবী প্রকৌশলীরা রয়েছেন তাদের মেধা যদি যথাযথ প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন দেখতে পায়,  তাহলে আমাদের কাঙ্খিত মাত্রায় যে উন্নয়ন সেটা সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে তাঁর সরকার এবং আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমরা এখন সড়ক উন্নয়নের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞে এগিয়ে যাচ্ছি। বড় বড় প্রকল্পসমূহ গুণগত মান বজায় রেখে সড়ক নির্মাণ করতে হবে। আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে প্রকেৌশলীরা তদারকি করে সড়কের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আমাদের কাজের আরো গতি আসবে বলে আমি মনে করি। ইতোমধ্যে আমরা নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করেছি। বর্তমান পেক্ষাপট ও  অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে টেকসই ও মজবুত এবং দীর্ঘমেয়াদী সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এখনি সময় এসেছে সড়ক নির্মাণে যুগোপযোগী উন্নত উপকরণ ব্যবহার করার।

সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকেৌশলী এ কে এম মনির হোসাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।