দেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার

35
Social Share

বিশেষ প্রতিনিধি: রামেন্দ্র মজুমদার; একাধারে নাট্য সংগঠক, পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, খবর পাঠক, বিজ্ঞাপন নির্মাতা ছাড়াও দেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। রামেন্দু মজুমদারের সবচেয়ে বড় পরিচয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার স্পষ্টবাদিতা। দেশীয় সংস্কৃতিকে আজও তিনি ধারণ করে চলেছেন। প্রাণোচ্ছ্বল এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্ম ৯ আগস্ট, ১৯৪১ সাল, লক্ষ্মীপুর জেলায়। বর্তমানে বসবাস করছেন মাতৃছায়া, ২০/২ সেন্ট্রাল রোড ঢাকা-১২০৫-এ। দেশখ্যাত এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান)সহ এমএ করেন ইংরেজি সাহিত্যের ওপর ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে। জীবন আর বাস্তবতার তাগিদে নিজের অবস্থানকে একটি বিশেষ জায়গায় দাড় করাতে তিনি একটার পর একটা কাজের ক্ষেত্র রদবদল করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে তিনি নোয়াখালী চৌমুহনী কলেজের অধ্যাপক হিসেবে ৩ বছর শিক্ষকতা করেছেন। এরপর করাচীর ইউনাইটেড অ্যাডভার্টাইজার্সে প্রতমে কপিরাইট ও পরে ক্লায়েন্ট সার্ভিস এক্সিকিউটিভ-এ ৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও নয়াদিল্লীর অ্যাডভার্টাইজিং সেলস প্রমোশন কোম্পানিতে ক্লায়েন্ট সার্ভিস এক্সিকিউটিভ হিসেবে ৭ মাস দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার বিটপী অ্যাডভার্টাইজিং লিঃ-এ ক্লায়েন্ট সার্ভিস ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত।
বর্তমানে তিনি এক্সপ্রেশনস্ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সুস্থ আর রুচিশীল বিজ্ঞাপন নির্মাণে এক্সপ্রেশন্স লিমিটেডের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন কাজের মধ্যে নিজেকে সর্বদাই ব্যস্ত রেখেছেন। যেমন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বাংলাদেশের প্রথম নাটকের পত্রিকা ত্রৈমাসিক থিয়েটার; ১৯৫৮ থেকে মঞ্চাভিনেতা, ১৯৬৫ থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ও ১৯৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সংবাদ পাঠক, ১৯৬৪ থেকে বাংলাদেশ বেতারে নাট্যভিনেতা ও ১৯৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সংবাদ পাঠক। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তিনি সৃষ্টি করেছেন একটি বিশাল পরিধি। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সভাপতি ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) বাংলাদেশ কেন্দ্র। সহ সভাপতি, আইটিআই কমিটি (বিশ্বব্যাপী) থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ এবং বর্তমান পরিচালক।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সম্মানীত সদস্য বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। এর আগে সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সাবেক সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, বাংলা একাডেমর সাবেক নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও অ্যাডভার্টাইর্জি এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বর্তমান সভাপতি। তিনি আমেরিকা কানাডা, সোভিয়ে ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যে, জার্মানী, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক, গ্রীস, ইটালী, ডেনমার্ক, চেক প্রজাতন্ত্র, ভেনিজুয়েলা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, জাপান, কুয়েত, ফিলিপিন্স ও সংযুক্ত আরব-আমিরাতসহ অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাছাড়া এসব দেশে অনেক ক্ষেত্রে নাটক বিষযক সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্ত্রী, কন্যা, সংসার নিয়ে তিনি একজন সুখী ও সফল মানুষ। তার নাটক, প্রবন্ধ, উপন্যাসের নাট্যরূপ, রূপান্তরিত নাটক সংকলন সম্পাদনা, প্রবন্ধ সংকলন সম্পাদনাসহ অসংখ্য সৃষ্টি তিনি পাঠককে উপহার দিয়েছেন। এর মধ্যে আছে একি সত্য সকলি সত্য, ক্রীতদাসের হাসি, বৈদেশী, বাংলাদেশের নির্বচিত নাটক, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ এর ইংরেজি সংস্করণ, তত্ত্ব ও শিল্পরূপ, আমার স্কুল, প্রথম তিরিশ (স্মৃতিকথা), কিছু শুনি কিছু ভুলি (রচনা সংগ্রহ), বাংলাদেশের নাট্যচর্চার তিন দশক প্রভৃতি।
সংস্কৃতিবান, মেধাবী, গুণী ব্যক্তি হওয়াতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সম্মাননায় তিনি একাধিকবার ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল পদক, নাট্যসভা পদক, মুনীর চৌধুরী সম্মাননা, নাট্যধারা পদক, লোক নাট্যদল পদক, প্রীতিলতা পদক, মকসুদ উস সালেহীন বজলুল করিম সম্মাননা, অচিন্ত্য স্মারক সম্মান (কলকাতা) ও ঢাকা অ্যাড ক্লাব প্রদত্ত লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।