দেশব্যাপি করোনা মুক্তির প্রার্থনায় হাজারো প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্যামা পূজা উদযাপিত

Social Share

করোনা মুক্তির প্রার্থনা জানিয়ে হাজারো প্রদীপ জ্বালিয়ে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দীপাবলী উৎসব ও শ্যামা পূজা উদযাপন করছেন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় কালী মন্দির প্রাঙ্গণ, প্রতিটি বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেজে ওঠে সারি সারি প্রদীপ আর মোমের স্নিগ্ধ আলোয়। পূজা উপলক্ষে প্রসাদ বিতরণ, আরতি, ধর্মীয় সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা করা হয়। করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থবিধি মেনে মন্দিরে-মণ্ডপে ও বাড়িতে এ পূজা হয়েছে।

পুরাণ মতে, সব অন্ধকার দূর করতেই মা কালীর মর্তে আগমন। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে শ্যামাপূজা বা কালী পূজার আয়োজন করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। অন্ধকারকে দূর করে শুভ ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় এই উৎসবের আয়োজন।

রাজধানী ঢাকায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় শ্যামা পূজা উদযাপিত হয়। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে সেখানে রাতে পূজা ছাড়াও সন্ধ্যায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে সহস্র প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মণ্ডপেও নানা ধর্মীয় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।  রাতে সাড়ে ৯টায় পূজা শুরু হয় এবং হোমসজ্ঞের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশানে মধ্যরাতে পূজা, অঞ্জলী প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ ছাড়াও সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।

এছাড়া রাজধানীর রমনা কালী মন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, বনগ্রাম রোডের রাধা গোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দির, জয়কালী মন্দির রোডের রামসীতা মন্দির, রায়েরবাজার শেরেবাংলা রোড কালী মন্দির, পোস্তগোলা শ্মশান, লালবাগ শ্মশান, ঠাঁটারীবাজার, শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজার, ফরাশগঞ্জ, লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, দয়াগঞ্জ, শ্যামবাজার, কোতয়ালী, উত্তর মুশুণ্ডী, দক্ষিণ মুশুণ্ডী, নারিন্দা, যুগীনগর, নবাবপুর, রাজারবাগ, বাড্ডা, পান্নিটোলা, মতিঝিল, রমনা, গুলশান, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও শ্যামপুরসহ বিভিন্ন স্থানেও শ্যামা পূজা উদযাপিত হয়।