দুর্নীতি এড়াতে ইয়াসের ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে: মমতা

44
Social Share

গতবছর ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। তবে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে ত্রাণকার্যে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দুর্নীতিতে একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নাম উঠে এসেছিল। যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাই গতবারের থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে পাঠাবে রাজ্য সরকার। যার ফলে দুর্নীতি এড়ানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নবান্ন এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণের ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত করতে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বিভিন্ন দফতরের সচিবদের থেকে ক্ষতির বিবরণ জেনে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যের মোট ১.১৬ লাখ হেক্টর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়ে গিছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকার মতো। ইয়াসের আগে বেশ কয়েকটি জায়গায় ছোটখাটো টর্নেডো আঘাত হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই টাস্ক ফোর্স ক্ষতিপূরণের কাজের তদারকি করবে।  মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, আর্থিক ক্ষতি পূরণের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা হয়েছে। এই টাকার সুষ্ঠু বন্টনের নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুয়ারে দুয়ারে সরকারের মতোই দুয়ারে দুয়ারে ত্রাণ বিলি করা হবে। জুনের ৩ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত দুয়ারে ত্রাণ বিলি হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেরাই ত্রাণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ১৯ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন খতিয়ে দেখা হবে। এর পর ১ জুলাই থেকে ৮ জুলায়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় রাজ্য সরকারকে ৪০০ কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছে কেন্দ্র। শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে রাজ্যের জন্য ফের নতুন করে বরাদ্দ করবেন তিনি।