দুর্নাম ঘুচলো কোপার ফাইনালে, অবশেষে ‘শাপমোচন’ হলো মেসির

47
Social Share

অবশেষে ‘শাপমোচন’ হলো লিওনেল মেসির। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অবশেষে তিনি ট্রফি জয় করলেন। ১৯৯৩ সালে শেষবার কোপা আমেরিকা কাপ জয় করেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালের বিশকাপ ফুটবলের ফাইনালে ব্রাজিলের এই মারাকানা স্টেডিয়ামেই জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে গিয়েছিল মেসিরা। সেই ক্ষত আজও দগদগে।

অবশেষে রবিবার (১১ জুলাই) কাঙ্ক্ষিত জয়টা পেয়ে গেল আর্জেন্টিনা। মারাকানা স্টেডিয়ামে আয়োজিত কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের জয়সূচক গোলটা করেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া।

কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কোচ লিও স্কালোনি একটা ট্রাম্প কার্ড খেলে দেন। এতদিন ধরে যে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে দ্বিতীয়ার্ধেরও কিছুক্ষণ পরে মাঠে নামাচ্ছিলেন, এদিন তাকেই দলের প্রথমার্ধে দেখতে পাওয়া গেল। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় আর্জেন্টিনার খেলার গতিও।

২২ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দিলেন ডি মারিয়া। প্রায় মাঝ মাঠ থেকেই লম্বা বল ভাসিয়ে দিয়েছিলেন রড্রিগো ডি পল। কিন্তু সেই বলটা রেনান লোদি ঠিক করে সংগ্রহ করতে পারেননি। বল যায় ডি মারিয়ার কাছে। তিনি প্রথমে বাঁ পায়ে বলটাকে ধরেন। তারপর ছোট্ট একটা লব করে বলটা ব্রাজিলের জালে জড়িয়ে দেন। আজ দেশের হয়ে ১১১তম ম্যাচ খেলতে নেমেছেন ডি মারিয়া। আর এই ম্যাচে তিনি ২১তম গোলটা পেয়ে গেলেন।

এবারের ফাইনালে দুইদলেই একটু বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। ১৫ মিনিটের মাথায় লিওনেল মেসি এবং নেইমার জুনিয়র দুইজনই চোট পেয়ে মাঠের মধ্যে ছটফট করতে শুরু করেছিলেন। একদিকে ৪-৩-৩ ছকে যেখানে দল নামিয়েছেন স্কালোনি, সেখানেই তিতে ৪-২-৩-১ ছকে নিজেদের গুটি সাজিয়েছেন।

প্রথমার্ধে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ৫০ মিনিটে মেসি ডি মারিয়াকে অসাধারণ একটা পাস বাড়ালেও, ব্রাজিলের রক্ষণে সেই শট প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে। ৫২ মিনিটে ব্রাজিল প্রায় সমতা ফিরিয়েই ফেলেছিল। লুকাস পাকুয়েতার বাড়ানো বল থেকে রিচার্লিসন গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণের ঝাঁঝ অনেকটাই বেড়ে যায়। পরপর আক্রমণ তারা তুলে আনে। ৫৫ মিনিটে ফের শট রিচার্লিসনের। কিন্তু আর্জেন্টিনার অতন্দ্রপ্রহরী এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অবশেষে দারুণ একটা সেভ করেন। ৮৬ মিনিটে নেইমার একটা ফ্রি-কিক নিলেও, গ্যাব্রিয়েলের দুরন্ত একটা শট মার্টিনেজ অসাধারণ সেভ করলেন।

৮৭ মিনিটে নিশ্চিত একটা গোল মিস করলেন মেসি। বেশ কয়েকটা সুযোগ ব্রাজিল তৈরি করলেও অবশেষে আর কোনও গোল তারা করতে পারেনি। বেজে যায় নির্ধারিত সময়ের বাঁশি। আর সেইসঙ্গে গোটা বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে যায় নীল-সাদা সমর্থকদের আনন্দ উচ্ছ্বাস।

কোপা আমেরিকার এবারের টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসি খেলেছেন সত্যিকার অর্থে চ্যাম্পিয়নের মতো। এবারের আসরের মেসি ৪ গোল করে সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। সতীর্থদের দিয়েও তিনি গোল করিয়েছেন পাঁচটি। এই সংখ্যাগুলোই প্রমাণ করে মাঠে মেসি কতটা ফল নির্ধারক ছিলেন। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি আসরে গ্রুপ পর্ব ও নকআউট পর্ব মিলিয়ে ছয় ম্যাচের সবকটিতেই খেলেছেন। এই ছয় ম্যাচের চারটিতেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন মেসি।

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছরের পুরানো আক্ষেপ ঘোচালো আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ সালের পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করলো আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে আক্ষেপ ঘুচলো লিওনেল মেসিরও। ক্যারিয়ারের একমাত্র আক্ষেপ ছিল দেশের হয়ে একটি ট্রফি জয়ের, সেটাও হয়ে গেলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে।

ক্লাব ক্যারিয়ারে সবকিছুই অর্জন করেছেন লিওনেল মেসি। কিন্ত সব অর্জন যেন মলিন ছিলো। কারণ জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শিরোপা অর্জনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বারবার। কোপায় শেষ দুইবার ভেঙেছে, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ভেঙেছে। সবকটিই তিনি রানার্সআপ। দেশের জার্সিতে কোনও ট্রফি এতদিন ছিল না মেসির। এই দুর্নাম ঘুচলো কোপার ফাইনালে। লিওনেল মেসি দেশের জার্সিতে প্রথম আন্তর্জাতিক খেতাব জিতলেন।