দীর্ঘ ৭ বছর পর কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন, নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ

1046
Social Share

কাজল আর্য, স্টাফ রিপোর্টার:

মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার আওয়ামী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা টাঙ্গাইলের কালিহাতী। দীর্ঘ ৭ বছর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ১৫ জুন বুধবার। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সম্মেলন স্থান আরএস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ ব্যানার, ফেসটুন ও পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পুরো উপজেলা। সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

২০১৫ সালের মার্চ মাসে এ উপজেলায় সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তখন মোজহারুল ইসলাম তালুকদার সভাপতি এবং আনসার আলী বিকম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আনসার আলী দল থেকে অব্যাহতি পান। বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্য গ্রুপিং না থাকলেও রয়েছে অন্তর জ্বালা। ভেতরে ভেতরে নেতায় নেতায় রয়েছে দূরত্ব মতপার্থক্য।

এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সভাপতি পদে শুধু মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের একক নামই মাঠে শোনা যাচ্ছে।

মোজহারুল ইসলাম তালুকদার পা থেকে মাথা পর্যন্ত আগাগোড়া একজন পূর্ণাঙ্গ আওয়ামী লীগার। উপজেলার পূর্বাঞ্চল মরিচা থেকে পশ্চিমাঞ্চল আফজালপুর এবং দক্ষিণে সুরাবাড়ী থেকে উত্তরে বেতডোবা পর্যন্ত দিনরাত মাঠঘাট চষে বেড়ান। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিটি গ্রাম-মহল্লা এবং দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর ওয়ার্ড-ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সরাসরি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং পরিচিত। তিনি দুই বার নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করেন। তিনি কালিহাতী থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইবার সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, ১৯৯১ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত টানা সভাপতির দায়িত্বপালন করছেন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পর দুই বার গ্রেপ্তার হন এবং দুইবারই সামরিক জান্তার নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এমএ মালেক ভূইয়া, সহ-সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মন্ডল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ আহমেদ রাজু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান দিপুল এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পৌরসভার মেয়র নুরন্নবী সরকার।

শক্ত অবস্থানে থাকা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ছাত্রলীগ করেছি যুবলীগ করেছি এখন আওয়ামী লীগ করি। দলের কাজ করতে বহুবার হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবুও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে পিছপা হইনি। গত সম্মেলনেও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলাম। পরে নেতৃবৃন্দের আশ্বাসে সরে আসি। আশা করি দল এবার আমাকে মূল্যায়ন করবে। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি নির্বাচন করা ২ নেতাও প্রার্থী হয়েছেন।

সভাপতি প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য। আওয়ামী লীগ করতে গিয়ে আমার রক্ত ঝরেছে, কারাবরণ করেছি। দলীয় নেতাকর্মীরা আমার ভাই-বন্ধু-আত্মার আত্মীয়। সম্মেলনে কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং দলের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তই শিরোধার্য।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক আবু নাসের বলেন, কালিহাতীর হাজারো নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অতীতে যারা নৌকা এবং দলের প্রকাশ্য বিরোধীতা করেছে তারা যেনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে না পারেন। সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বেড়িয়ে আসবে। যাতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল ও দেশ এগিয়ে যাচ্ছেন। অতীতের যেকোন সময়ের থেকে কালিহাতীর এবারের সম্মেলন অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ হবে। নতুন যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে দল আরো সুসংগঠিত এবং নেতাকমীরা উপকৃত হবে। সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

উল্লেখ্য, ১৩ টি ইউনিয়ন এবং ২ পৌরসভা নিয়ে কালিহাতী উপজেলা গঠিত। টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসন থেকে একাধিকবার এমপি হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজ। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমেরও পৈত্রিক নিবাস এ উপজেলায়ই।