দিল্লি বিস্ফোরণে আল-কায়দার হাত? তদন্তে মোসাদ

18
Social Share

দিল্লি বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র কি ইরানেই রচিত? বিস্ফোরণের কারণ কি কূটনৈতিক বিদ্বেষ নাকি অন্য কিছু? ইরানি বিজ্ঞানীর হত্যার বদলায় কি সহায়তা করছে আল-কায়দা, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি সংগঠন? এর উত্তর খুঁজে বের করতে এবার এগিয়ে এল ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রন মালকা জানিয়েছেন, দু’দেশের তদন্তকারীরা একযোগেই রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, ইজরায়েলি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে NIA-এর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে মোসাদ।

এদিকে, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত বিস্ফোরক মূলত আল-কায়দা জঙ্গিরাই ব্যবহার করে থাকে। ফরেন্সিক দলের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বিস্ফোরকটি একটি PETN। এই ধরনের বিস্ফোরক সহজলভ্য নয়। মূলত আল-কায়দার জঙ্গিরাই বোমা তৈরির জন্য এটি ব্যবহার করে থাকে। অতীতে বহু ঘটনায় আল-কায়দার জঙ্গিদের থেকে এই বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে হাই ভোল্টের নয় ওয়াট ব্যাটারির কিছু অংশ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান এই ব্যাটারি ট্রানজিস্টর রেডিওতে ব্যবহার হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ব্য়াটারি সাধারণত লস্কর-ই-তইবা এবং ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন সংগঠন বোমা তৈরির জন্য ব্যবহার করে। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের পাশাপাশি বোমা তৈরির জন্য বেশিরভাগ সন্ত্রাসবাদীরা এই ব্যাটারির অংশ সংগ্রহ করে রাখে। একইসঙ্গে, টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া জইশ-উল-হিন্দের একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট ধন্দে ফেলেছে গোয়েন্দাদের।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি এনার্জি ড্রিংকের ক্যানের মধ্যে IED বিস্ফোরকটি ভরে দেওয়া হয়েছিল। এরপর দুষ্কৃতীরা সেটি একটি ফুলের টবের সঙ্গে বেঁধে দেয়। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ওই টব APJ আব্দুল কালাম রোডে ইজরায়েল দূতাবাসের ঠিক সামনে ফেলে যায় জঙ্গিরা। এদিকে দিল্লি বিস্ফোরণের ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে প্যারিসের ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে থেকেও একই ধরনের একটি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে ২০১২ সালে দিল্লিতে এক ইজরায়েলি কূটনীতিকের স্ত্রীর উপর হামলার দিনই জর্জিয়াতেও ইহুদি দেশের দূতাবাসের একটি গাড়ির নীচে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। চাবাহার চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারত-ইরান বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হলেও তা যে খুব একটা সুখকর নয়, সে বিষয়ে বেশ নিশ্চিত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আর তাই কি সংঘবদ্ধভাবে ইজরায়েলের উপর আক্রমণ এনে ভারতকেও ঘুরপথে বার্তা দিচ্ছে ইরান? প্রশ্ন উঠছে ওয়াকিবহাল মহলে।

মনে করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের মাত্রা কম রেখে আদতে ভারত এবং ইজরায়েলকে একটি হুমকি দিতে চেয়েছে হামলাকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া রহস্যজনক চিঠিতে ইরানের নিহত কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমনি এবং নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী ড. মহসিন ফাকরিজাদের নাম সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই দুই হত্যার জন্য ইরান সরাসরি দায়ী করে ইজরায়েলকে। সে ক্ষেত্রে ইজরায়েলকে মার্কিন মুলুকের তরফে মদত দেওয়া হয়েছে বলেও বিশ্বাস ইরানিদের। আর তাই ইজরায়েলকে সতর্ক করতে তারা আল-কায়দা কিংবা লস্কর-ই তইবার সাহায্য নিয়ে থাকতে পারে বলেও মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।

রন মালকা আরও জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ইজরায়েল দূতাবাসের আধিকারিকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করলেও, তার ইঙ্গিত যে ইরানের দিকেই সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ভারত-ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক ২৯ বছরের পা রাখার সময় এই ঘটনা একেবারেই নয় বলেই মত রন মালকার। তবে মোসাদ এবং NIA-এর যৌথ তদন্তে এই ঘটনার কিনারা হবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

-এই সময়