দিল্লির বাতাস চোখে লাগতেই জ্বালাপোড়া শুরু হচ্ছে

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারতের রাজধানী দিল্লির বাতাস ভয়াবহ রকমভাবে দুষিত হয়ে আছে। এখন ঘরের বাইরে বের হলে চোখে ওই বাতাস লাগা মাত্রই জ্বালাপোড়া করছে। কিন্তু বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো সুখবরই দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জরুরি বৈঠক করেছে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর। দিল্লিতে বন্ধ সব ধরনের নির্মাণকাজ। হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ধান কাটার পর খড় পোড়ানো।

ভারতের নয়াদিল্লির দূষণ পরিস্থিতির দৃশ্যত কোনো উন্নতি হয়নি। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গাড়ির সংখ্যা কমাতে সড়কে জোড়-বিজোড় নম্বর প্লেটের ভিত্তিতে যাতায়াত চলছে।

শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। চোখে দেখতেও কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে দিয়েছেন জানান বাসিন্দারা।

দিল্লিতে বেড়াতে আসা এক জার্মানির নাগরিক বলেন, আমি মনে করি দিল্লিতে আসলে বসবাসের কোনো অবস্থা এখন আর নেই।

গণমাধ্যমের এক সমীক্ষা বলছে, রাজধানী নয়াদিল্লির ৪০ শতাংশ বাসিন্দা পাকাপাকিভাবে এ শহর ছেড়ে চলে যেতে চান। অন্তত ১৬ শতাংশ বাসিন্দা চান দূষণ ও ধোঁয়ার সময়ে শহরের বাইরে থাকতে। বায়ু দূষণের কারণে ৪৪ শতাংশ বাসিন্দা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট বলছে, দূষণ কমাতে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এ নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করা যাবে না। পাশাপাশি হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে সব ধরনের খড় জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০১০ সাল থেকে দফায় দফায় বেড়েছে দূষণের মাত্রা। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন বলছে, দিল্লির বাতাসের গুণগত সূচক-একিউআই-এর গড় ৭০৮। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। একিউআই-এর স্বাভাবিক উপস্থিতি হলো শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত।

পাকিস্তানের বিভিন্ন পর্বত থেকে বয়ে আসা হাওয়া ও জলকণা, প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে ফসলি জমিতে খড় পোড়ানোর ধোঁয়া আর ধুলাবালি সব একসঙ্গে মিশে প্রতিবছর দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে।

দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশের আগ্রার দূরত্ব প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার। দিল্লির দূষণ পৌঁছে গেছে আগ্রাতেও। তাই তাজমহলের সৌন্দর্য রক্ষার্থে বাতাস বিশুদ্ধিকরণ যন্ত্র বসানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে ভারত জুড়ে কমেছে পর্যটকের সংখ্যা।