দামি ঘড়ি-গাড়ি নয়, পুরুষদের একটি স্বভাবই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়! কিসের কথা বলছেন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী জেনিফার লোপেজ়

 

ভিনিউজ ডেস্ক : নারীদের অনেক সময়ে এই অপবাদ সহ্য করতে হয় যে, তাঁরা টাকার পিছনে ছোটেন। সুস্মিতা সেন থেকে শুরু করে জেনিফার লোপেজ়, অনেক তারকাও আছেন এই তালিকায়। কিন্তু আদপে কী চান, সেটাই শয়ে শয়ে দর্শক ও শ্রোতার সামনে স্পষ্ট বলে দিলেন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী জেনিফার।

 

‘‘দামি ঘড়ি বা কেতাদুরস্ত গাড়ি নয়। ব্যক্তিগত বিমানও নয়। থাকলে মন্দ নয়। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে একটিই বিষয় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।’’ ইটালির কনসার্টে গান গেয়ে মন জয় করেছেন জেনিফার লোপেজ়। কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে আরও বেশি সমর্থন কুড়োলেন শ্রোতাদের থেকে। তাঁর সঙ্গে সুর মেলালেন শত শত নারী-পুরুষ!

জেনিফার বলছেন, ‘‘লোকে আমায় দেখে ভাবে, আমি বোধহয় খুবই দামি জিনিস পছন্দ করি ইত্যাদি। করিও। অস্বীকার করি না। আমার নিজের টাকা রয়েছে। জিনিসপত্র কেনার জন্য আমার অন্য কারও প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনারা কি জানেন, এক জন পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টি আকর্ষণীয়? যে মানুষটি সকালে উঠে বিছানাটা গুছিয়ে রাখবে, রাতের বেলা আপনি ক্লান্ত থাকলে যে নিজে থেকে বাসনগুলো ধুয়ে দেবে, এটাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হয় আমার।’’ অর্থাৎ দিনের শেষে ছোট ছোট দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতাই তাঁর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

মনোবিদদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি শুধু ভালবাসা নয়, দামি দামি উপহার দেওয়া নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতাই সম্পর্কের ভিত তৈরি করে। যখন এক জন সঙ্গী কোনও প্রত্যাশা ছাড়াই অন্য জনের ভার লাঘব করার চেষ্টা করেন, তখন সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা, সম্মান এবং বিশ্বাস আরও গভীর হয়। ছোট ছোট এই আচরণই দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।

আর্থিক সাফল্য বা বাহ্যিক চাকচিক্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এখনও। কিন্তু সে সব সম্পর্ক দুর্বল ভিতের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। আর নারীদের অনেক সময়ে এই অপবাদ সহ্য করতে হয় যে, তাঁরা টাকার পিছনে ছোটেন। সুস্মিতা সেন থেকে শুরু করে জেনিফার লোপেজ়, অনেক তারকাও আছেন এই তালিকায়। কিন্তু আদপে কী চান, সেটা শয়ে শয়ে দর্শক ও শ্রোতার সামনে স্পষ্ট বলে দিলেন জেনিফার। তাঁর মতো অনেকেই সম্পর্কে দায়িত্বশীলতা এবং সহানুভূতি খোঁজেন। একসঙ্গে ঘরের কাজ করা, পরস্পরের কথা মন দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকা— এগুলিই একটি সম্পর্কে সুখ এনে দিতে পারে। জেনিফারের এই কথা মনে করিয়ে দিল, প্রকৃত আকর্ষণ অনেক সময়ে দামি উপহারে নয়, বরং ক্লান্ত দিনের শেষে এক কাপ চা এগিয়ে দেওয়া, রান্নাঘরে সাহায্য করা কিংবা না-বললেও পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য জেনিফার লিন অ্যাফ্লেক ( জন্ম ২৪ জুলাই, ১৯৬৯ । , তার ডাকনাম জে.লো নামেও পরিচিত ।তিনি একজন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী এবং ব্যবসায়ী নারী। লোপেজকে তার সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী লাতিন বিনোদনকারীদের একজন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হলিউডে লাতিনো মার্কিনীদের জন্য বাধা ভাঙার এবং সঙ্গীতে লাতিন পপ আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তিনি ফ্যাশন, ব্র্যান্ডিং এবং মূলধারার সৌন্দর্যের মান পরিবর্তনের মাধ্যমে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তার প্রভাবের জন্যও সুপরিচিত।

পূর্বের খবরজার্মানিতে তীব্র গরমজনিত কারণে নয় হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!