দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করতে হবে

Social Share

লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে অগ্রসর হতে হবে। একজন হকারের শরীরে রক্ত থাকতে ফুটপাত ছাড়া যাবে না। লাখ লাখ হকারের সমাবেশ ঘটিয়ে দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন তারা। ‘হকার উচ্ছেদ, চলমান আন্দোলন-সংগ্রাম ও করণীয়’ শীষর্ক ওই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীর। আলোচনা করেন ন্যাশনাল হকার্স ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক শক্তিমান ঘোষ, ভারতের হকার সংগ্রাম কমিটির নেতা বাসুদেব লস্কর ও জয়ব্যাস, সিপিবি’র সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের মাহবুব মজনু, বহুমুখী হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া, হকার্স ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিমউদ্দিন প্রমুখ।

সভায় শক্তিমান ঘোষ বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে ফুটপাত খালি করার জন্য ভারতবর্ষে নির্বিচারে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তখন অপারেশন সানসাইন পরিচালনা করেছিল। এতে ১৮ জন হকার একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছিলেন। কিন্তু হকাররা ফুটপাত ছাড়েনি। সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে হকার আইন করতে ভারত সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিল। আইনের মাধ্যমেই হকারের মুক্তি এসেছে।

শক্তিমান ঘোষ আরো বলেন, মামলা-হামলা-গ্রেপ্তার-নির্যাতন করে হকারদের দমন করা যায়নি। সরকার ভারতের হকার নেতাদের নামে ৫৩টি মামলা করেছিল। তারপরও আমরা পিছপা হয়নি, রাজপথ ছাড়িনি। ভারতের লোকসভায় হকার আইন করে বিজয় অর্জন করে হকার ব্যবস্থাপনা করেছি, পৃথিবীর দেশে দেশে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি।

সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, হকাররা ভয় ও লোভকে অতিক্রম করে রাজপথে সংগ্রাম করছে। এখন কাজ হচ্ছে ঈমান ঠিক রেখে সংগঠিত হয়ে আইনি স্বীকৃতি আদায় করে নেওয়া। এই পথে অগ্রসর হলে কমিউনিস্ট পার্টি হকারদের সঙ্গে থাকবে।

ভারতের হকার সংগ্রাম কমিটির নেতা বাসুদেব লস্কর বলেন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অন্যায় নয়, এটি সেবা-পরিষেবা। সরকারের ব্যর্থতা হকাররা ঢাকছে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। সরকারের উচিৎ তাদের লালন ও প্রতিপালন করা।