দাদাভাই নওরোজি: শত বছর আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম ভারতীয় এমপি

দাদাভাই নওরোজি: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রপথিক
Social Share

১৮৯২ সালে কিভাবে একজন ভারতীয় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছিলেন? সেই ঐতিহাসিক ঘটনার কী তাৎপর্য আছে আজকের দিনের জন্য? ইতিহাসবিদ দিনায়ার প্যাটেল ফিরে দেখেছেন দাদাভাই নওরোজির রাজনৈতিক জীবন:

দাদাভাই নওরোজি (১৮২৫-১৯১৭) নামটি আজকের যুগে বেশ অপরিচিত বলেই মনে হবে।

কিন্তু তিনি কেবল ব্রিটেনের হাউজ অব কমন্সে বসা প্রথম ভারতীয় নন, গান্ধীর আগে তিনিই ছিলেন ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা। একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আন্তর্জাতিকভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

এখন বিশ্ব যখন অনেক ধরণের সংকটের মুখোমুখি, তাকে স্মরণ করাটা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রগতিশীল রাজনীতি যে কতটা শক্তিশালী এবং এই রাজনীতির চর্চা যে ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়েও আলো পৌঁছে দিতে পারে- দাদাভাই নওরোজির জীবন তার জ্বলন্ত উদাহারণ।

বোম্বের তুলনামূলকভাবে দরিদ্র এক পরিবারে নওরোজির জন্ম। তবে ‘ফ্রি পাবলিক স্কুল’ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তখন চলছে, সেটির সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি। এজন্যে তিনি আজীবন বিশ্বাস করেছেন, বিনামূল্যে শিক্ষালাভের যে সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, সেই নৈতিক ঋণ একমাত্র পরিশোধ করা যেতে পারে জনসেবার মাধ্যমে।

খুবই অল্প বয়স থেকে তিনি এমন সব প্রগতিশীল কাজের জন্য আন্দোলন করেছেন, যেগুলো মোটেই জনপ্রিয় ছিল না।

১৮৪০ এর দশকেই তিনি ভারতে মেয়েদের জন্য স্কুল খুলেছেন। এজন্যে তাকে গোঁড়া ভারতীয়দের রোষের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু যে কোন কিছু নিয়ে লেগে থাকা ছিল তার চরিত্রের অন্তর্গত এবং একসময় বৈরি জনমতকে তিনি নিজের পক্ষে নিয়ে আসতে পারতেন।

তার এই উদ্যোগের পাঁচ বছরের মধ্যেই বোম্বের স্কুলগুলো মেয়েদের কোলাহলে ভরে উঠলো। দাদাভাই নওরোজি তখন তার লক্ষ্য ঠিক করলেন আরেক ধাপ উপরে। তিনি নারী-পুরুষের সমান অধিকারের দাবি জানালেন।

তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, “ভারতীয়রা একদিন বুঝতে পারবে, এই পৃথিবীতে পুরুষরা যত ধরণের অধিকার ভোগ করে, যত ধরণের সুযোগ পায়, যত ধরণের দায়িত্ব পালন করে, নারীদেরও এর সব কিছুতে সমান অধিকার আছে।”

১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।

ব্রিটেনে এসে সম্পদের প্রাচুর্য এবং সমৃদ্ধি দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে, তার নিজের দেশ কেন এত দরিদ্র।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তার দুই দশকব্যাপী অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের কাজ শুরু হলো তখন থেকে।

তখন অর্থনীতিতে যে গতানুগতিক ধ্যানধারণার দাপট, তাতে বলা হতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তার উপনিবেশের মানুষদের জন্য সমৃদ্ধি নিয়ে এসেছে। কিন্তু এই তত্ত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করলেন দাদাভাই নওরোজি। একের পর এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ দিয়ে তিনি প্রমাণ করে ছাড়লেন, এর উল্টোটাই আসলে সত্যি।

তিনি যুক্তি দিয়ে দেখালেন, ব্রিটিশ শাসনের কারণেই ভারতের অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ভারত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ভারতে একের পর এক ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ হচ্ছে। তার এই কথায় প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়েছিল ব্রিটেনের অনেক মানুষ। তারা দাদাভাই নওরোজির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং আনুগত্যহীনতার অভিযোগ আনলো। ব্রিটেনেরই একটি উপনিবেশের লোক প্রকাশ্যে এরকম একটা কথা বলতে পারে, এটা তারা বিশ্বাসই করতে পারছিল না।

কিন্তু দাদাভাই নওরোজির এই উপনিবেশ বিরোধী চিন্তাধারা আবার অনুপ্রাণিত করছিল বহু মানুষকে।

কিভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো উপনিবেশগুলো থেকে সম্পদ নিয়ে যাচ্ছিল সেটি যেভাবে তিনি তুলে ধরেছিলেন, তা ইউরোপের সমাজবাদী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল মানুষদের বেশ প্রভাবিত করেছিল। এদের মধ্যে ছিলেন উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ান এবং সম্ভবত কার্ল মার্কস পর্যন্ত। ভারতে যেভাবে তিনি নারী শিক্ষার ব্যাপারে জনমতে পরিবর্তন আনেন, একইভাবে তার উপনিবেশ বিরোধী চিন্তাভাবনাও মানুষের চিন্তায় পরিবর্তন ঘটাতে থাকে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য তার মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার মূলে ছিল ভারতের দারিদ্র।

তখনকার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একজন মানুষ হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার তার ছিল। কিন্তু এটি তাকে করতে হবে ব্রিটেনে থেকেই।

এক্ষেত্রে তিনি আইরিশ জাতীয়তাবাদীদের কৌশল অনুসরণ করছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতকে ওয়েস্টমিনস্টার হলের ভেতর থেকেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানাতে হবে। কারণ ভারতের ভেতর থেকে এরকম দাবি জানানোর কোন পথ নেই। আর এই লক্ষ্য নিয়েই তিনি ১৮৮৬ সালে লন্ডনের হবোর্ন এলাকা থেকে এমপি নির্বাচনে দাঁড়ালেন। কিন্তু শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলেন।

কিন্তু হাল ছাড়লেন না দাদাভাই নওরোজি। পরের কয়েক বছর তার ব্যস্ত সময় কাটলো ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলনের মৈত্রী গড়ে তোলার চেষ্টায়। নারীর ভোটাধিকারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছিল, সেটিতেও বলিষ্ঠ সমর্থন দিলেন তিনি।

তিনি আয়ারল্যান্ডের স্বশাসনের দাবিতেও সোচ্চার হয়ে উঠলেন। তিনি আয়ারল্যান্ড থেকেই পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াতে যাচ্ছিলেন প্রায়। ব্রিটেনের লেবার এবং সমাজবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বেশ জড়িয়ে পড়লেন তিনি। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শ্রমিকদের জন্য সবধরণের অধিকারের দাবি জানালেন।

এভাবে তার রাজনৈতিক সংগ্রামের পেছনে লেগে থেকে দাদাভাই নওরোজি ব্রিটেনের একটা বিরাট অংশের মনোভাবে পরিবর্তন আনতে সফল হলেন। তিনি তাদের বোঝাতে পারলেন যে, ভারতে জরুরি রাজনৈতিক সংস্কার দরকার। নারীর ভোটাধিকার কিংবা শ্রমিকদের আট ঘন্টার কাজের দাবির মতো এটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাকে সমর্থন জানিয়ে প্রচুর চিঠি আসতে লাগলো শ্রমিক, ইউনিয়ন নেতা, কৃষিবিদ, নারীবাদী থেকে শুরু করে পাদ্রীদের কাছ থেকেও।

তবে সবাই যে তার কথার সঙ্গে একমত হচ্ছিল, তা নয়। অনেকেই ছিল অসন্তুষ্ট। এরা দাদাভাই নওরোজিকে ‘কার্পেটবাগার’ এবং ‘হটেনটট’ বলে গালিগালাজ করতো।

তৎকালীন এক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড সলসবারি এমনকটি দাদাভাই নওরোজিকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, তার মতো ‘কালো মানুষ’ একজন ইংলিশম্যানের ভোট পাওয়ার যোগ্য নয়।

কিন্তু দাদাভাই নওরোজি যথেষ্ট সংখ্যাক ভোটারকে তার পক্ষে আনতে সফল হলেন।

১৯৯২ সালে লন্ডনের সেন্ট্রাল ফিন্সবারির ভোটাররা তাকে মাত্র পাঁচ ভোটের ব্যবধানে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী করে ওয়েস্টমিনস্টারে পাঠালেন। মাত্র পাঁচ ভোটে জয়ী হওয়ার কারণে তাকে খোঁটা দিয়ে ডাকা হতো ‘দাদাভাই ন্যারো মেজরিটি’ বলে।

পার্লামেন্টে গিয়ে মোটেই সময় নষ্ট করলেন না তিনি। কাজ শুরু করে দিলেন তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে।

তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ভারতে ব্রিটিশ শাসনকে ‘অশুভ’ বলে ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন, এই ব্রিটিশ শাসন ভারতীয়দেরকে তাদের নিজ দেশেই ক্রীতদাসে পরিণত করেছে। তিনি এমন সব আইন করার প্রস্তাব জানালেন যাতে করে উপনিবেশিক আমলাতন্ত্রকে বদলে দিয়ে ভারতীয়দের হাতে ন্যস্ত করা যায়।

কিন্তু তার এসব উদ্যোগে কোন ফল হচ্ছিল না। এমপিরা তার আবেদন অগ্রাহ্য করে যাচ্ছিল। ১৮৯৫ সালের পুননির্বাচনে হেরে গেলেন দাদাভাই নওরোজি।

তার জীবনের এক অন্ধকার সময় ছিল এটি।

১৮৯০ হতে ১৯০০ দশকের সেই সময়ে ভারতে ব্রিটিশ শাসন আরও কঠোর এবং স্বৈরাচারী হয়ে উঠলো। দুর্ভিক্ষ আর প্লেগের মহামারিতে মরলো লাখ লাখ মানুষ। ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যুক্ত অনেকেই হতাশ হয়ে পড়লেন, তাদের লক্ষ্য বুঝি কোনদিনই অর্জিত হবে না।

কিন্তু আশা ছাড়লেন না দাদাভাই নওরোজি। তিনি আরও বেশি করে প্রগতিশীল মানুষদের আন্দোলনে যুক্ত হলেন। অন্যদিকে ভারতের জন্য তার আন্দোলনও চালিয়ে যেতে লাগলেন।

এবার তিনি সরাসরি দাবি তুললেন, ভারতের এখন স্বশাসন বা স্বরাজ দরকার। উপনিবেশিক শোষণ থেকে এটাই একমাত্র পথ।

তিনি সেসময়ের আরেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হেনরি ক্যাম্পবেল-বেনারমেনকে বললেন, সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন ভারতে যেসব অবিচার করেছে, এই ‘স্বরাজ’ তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করবে।

তার এসব কথা এবং ধারণা বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রতিধ্বনি তুলছিল। ইউরোপের সমাজবাদী মহলে, আফ্রিকান-আমেরিকানদের পত্র-পত্রিকায় এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একদল ভারতীয়ের মধ্যে। তাদের নেতা ছিলেন গান্ধী।

দাদাভাই নওরোজির স্বরাজের দাবিটাই যেন এক বিরাট ঔদ্ধত্য। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এক সাম্রাজ্যের দাবি তুলছে বিশ্বের খুবই নিপীড়িত এক জাতি।

দাদাভাই নওরোজি তার আশাবাদ কিন্তু কখনোই হারাননি, যেটি ছিল তার স্বভাবজাত।

৮১ বছর বয়সে জীবনের শেষ যে বক্তৃতা তিনি দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে রাজনৈতিক জীবনে তাকে অনেক আশাহত হতে হয়েছে।

“এটি এমন হতাশা, যা কারও হৃদয় পর্যন্ত ভেঙ্গে দিতে পারে এবং চরম নৈরাশ্যের দিকে, এমনকি আমার ভয় হয়, বিদ্রোহের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।”

কিন্তু এসবের পরও দাদাভাই নওরোজির কাছে একাগ্রতা, দৃঢ় অঙ্গীকার এবং প্রগতিশীল রাজনীতির ওপর বিশ্বাসই ছিল একমাত্র বিকল্প পথ।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্যদের তিনি বলেছিলেন, “‍আমরা যখন সামনে এগিয়ে যাব, তখন প্রতিটি ধাপে আমাদের অবস্থা বুঝে কৌশল নিতে হবে, কিন্তু আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতেই হবে।”

দাদাভাই নওরোজির এসব কথা আজকের দিনের রাজনৈতিক বিতর্কে কতটা প্রাসঙ্গিক?

এক শতাব্দী পর তার অনেক কথা অপরিপক্ক বলে মনে হতে পারে। লোকরঞ্জনবাদ, কর্তৃত্ববাদ আর দলান্ধ রাজনীতির এই যুগে তার অনেক কথাকে সেকেলে বলে মনে হবে।

কারণ সময় এখন আসলেই একেবারে ভিন্ন।

ব্রিটেনের পার্লামেন্টে এখন যেসব এশিয়ান এমপি আছেন, তাদের মধ্যে অনেকে তিক্ত ব্রেক্সিটপন্থী’। ব্রিটেনের সাম্রাজ্যবাদী অতীত ইতিহাসকে তারা দেখেন এক বিভ্রান্ত দৃষ্টিকোন থেকে।

আর ভারত এখন এমন এক হিন্দু জাতীয়তাবাদের কব্জায়, যারা ভারতের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধ, যে মূল্যবোধ তৈরিতে অবদান রেখেছিলেন দাদাভাই নওরোজি, তার একেবারে বিপরীত মেরুতে।

দাদাভাই নওরোজি তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্ভর করতেন ব্যাপক পড়াশোনা, গবেষণার ওপর। ভুয়া খবর আর তথাকথিত ‘অল্টারনেটিভ ফ্যাক্টস’ বা বিকল্প তথ্যে হারিয়ে যাওয়া এই যুগে হলে তিনি কী করতেন, তা কল্পনা করা কঠিন।

কিন্তু আজকের যুগেও অধ্যাবসায়, একাগ্রতা আর প্রগতিতে বিশ্বাস, যা কিনা দাদাভাই নওরোজির রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য, তা সামনে এগুনোর পথ দেখাতে পারে।

গত শতকের শুরুর বছরগুলোতে যখন দাদাভাই নওরোজি ভারতে স্বরাজের দাবি তুলেছিলেন, তখন তার বিশ্বাস ছিল এটি অর্জন করতে ৫০ হতে একশো বছর সময় লাগবে।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তখন তার শিখরে। আর বেশিরভাগ ভারতীয় তখন এতটাই দরিদ্র আর ক্ষুধার্ত যে ‘স্বশাসন’ নিয়ে ভাবনার সময় যেন তাদের নেই।

দাদাভাই নওরোজি অবাক হতেন শুনলে যে তার নাতি-নাতনিরা এক মুক্ত-স্বাধীন ভারতেই বসবাস করেছে। আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে।

কাজেই দাদাভাই নওরোজির জীবন থেকে নেয়ার মতো শিক্ষা অনেক কিছু। সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। স্বৈরাচারীদের শাসন চিরকাল চলে না। জনমত হঠাৎ করেই বদলায়।

দক্ষিণ পন্থী পপুলিজম আর কর্তৃত্ববাদী শাসনের হয়তো উত্থান ঘটছে এই মূহুর্তে, কিন্তু দাদাভাই নওরোজি হয়তো আমাদের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোন থেকে আজকের ঘটনাবলীকে দেখার পরামর্শ দিতেন।

তিনি বলতেন প্রগতিশীল মতাদর্শের প্রতি আস্থা রাখতে এবং সর্বোপরি, লক্ষ্যে অবিচল থাকতে।

একাগ্রতা আর ইস্পাত কঠিন অঙ্গীকার একেবারে অপ্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারে, এক শতক আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একজন ভারতীয়ের জয়ী হওয়ার চাইতেও অপ্রত্যাশিত কিছু।

‘নওরোজি: পাইওনিয়ার অব ইন্ডিয়ান ন্যাশনালিজম’, মে, ২০২০, প্রকাশ করেছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস এবং হারপারকলিন্স ইন্ডিয়া।