তৃতীয় চোখে বর্তমান আওয়ামীলীগ

293
Social Share

এম বি আখতার, উন্নয়ন কমী ও বিশ্লেষক:
বাংলাদেশের ৭২ বছরের পুরাতন এবং স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামীলীগ গত ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা দায়িত্বভার গ্রহন করেছে। এর পূর্বে ১৯৯৬ সালেও আওয়ামীলীগ দায়িত্বভার গ্রহন করেছে। প্রথম পাঁচ বছর আওয়ামীলীগ নির্বাচনে প্রদত্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার সমূহ বাস্তবায়নে অনেক বেশী সচেষ্ট ছিল। যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইবুন্যাল গঠন, বিচার কাজ সম্পন্ন এবং বিচারের রায় কার্যকর করা ইত্যাদি। সেই কারণে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত সরকার যেমন সক্রিয়তার সাথে দেশ পরিচালনায় মনোনিবেশ করেছিলো। ঠিক সেইভাবে আওয়ামীলীগ ও শরিক দলসমূহ সংগঠনকে সংহত করতে সক্রিয় ছিলো।

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ২০১৪ সালে গঠিত সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে মোকাবিলা করেছেলো। এই সময়ে দেশের অর্থনীতি ও অর্থনেতিক অবকাঠামোগুলি মজবুত করার প্রয়াস সঠিকভাবে হাতে নিয়েছিলো যার অন্যতম হচ্ছে পদ্মাসেতু, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নীতিকাঠামোগুলিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা ইত্যাদি।বর্তমানে আওয়ামীলীগ তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে এবং খুব বেশী রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াই দেশ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিচালনায় সক্ষম হয়েছে। যদিও ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ই ইসলাম নামক সংগঠনটি দেশের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদি দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলো যার ধারবাহিকতায় কখনো কখনো সরকারকে হেফাজতের সাথে অনেক বেশী সমঝোতার মধ্যে দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হয়েছে যা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী নাগরিকদের কিছুটা হলেও আঘাত করেছে।কিন্তু সকলেই এইটুকু বিশ্বাস রেখেছিলো যে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্ত হাতেই দেশের ভার রয়েছে অতএব জনগণ স্বস্থির ও শান্তির সাথে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অংশগ্রহন করতে পারবে।

কিন্তু জনগণের এই শান্তির ও স্বস্থির অবস্থাকে গত দুই সপ্তাহ থেকে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের অবতারনা করেছে।কারণ বাংলাদেশ যখন স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যোগ দিতে এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সূচক গুলিতে যখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ গুলির সাথে সমানে সমান প্রতিযোগিতা করেছে, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিধি যখন পৃথিবীর ৩৯ তম বড় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে ঠিক সেই সময় বাংলাদেশকে ৫০ বছর পিছনে নিয়ে যাওয়ার মতো জিঘাংসা দেখানোর মতো শক্তিও গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে তাদের অবস্থা ও অবস্থান দেখাতে সক্ষম হয়েছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্রগ্রাম, ঢাকায় হেফাজত কোন প্রকার বাধা বিঘ্ন ছাড়া যে তাণ্ডপ চালিয়েছে তাতে মনে হয়েছে আমরা কি ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর নির্মমতার কাছে নিরস্ত্র জরগণ? কিন্তু ১৯৭১ সালেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে ‘যার কাছে যা ছিলো তাই দিয়েই শত্রুর মোকবিলা করতে সক্ষম হয়েছিলাম’ কিন্তু গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা কিন্তু সেই ধর্মীয় উগ্রতায় আশেক হেফাজতের তাণ্ডপের কাছে যেন আত্মসমর্পন করেছি এবং সেখান থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে গিয়ে আওয়ামীলীগ কি দিশেহারা?