তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১

Social Share

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর অনেক গুলো আফটার শক অনুভূত হয়। তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে আরো এক হাজার মানুষ। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ খবর জানিয়েছে।

৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল এলাজিগ প্রদেশের সিভরিস শহরে। ভূম্পিকম্পের কারণে ভবন ধসে পড়ে, যার কারণে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয় স্থানীয় বাসিন্দারা।

কম্পন অনুভূত হয়েছে পার্শ্ববর্তী সিরিয়া, লেবানন এবং ইরানেও।

তুরস্ক প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ১৯৯৯ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজমিত শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজার মানুষ মারা যায়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্য ০৮:৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, ভূম্পিকম্প আঘাত হানার পর ৬০টি আফটার শক বা পরাঘাত অনুভূত হয়।

এটি জানায়, প্রায় ৪০০ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, যাদের সাথে বাস্তুচ্যুতদের জন্য বিছানা এবং তাঁবু রয়েছে।

আফটার শকের কারণে বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে।

এলাজিগের গভর্নর জানান তার প্রদেশে আট জন মারা গেছেন। একইসাথে পার্শ্ববর্তী মালাতিয়া প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছে যে সেখানে ছয় জন মারা গেছেন।

টেলিভিশনে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায় যে, ধ্বংস্তুপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জরুরী সেবাদানকর্মীরা।

আরো পড়তে পারেন:

“এটা খুবই ভয়ংকর ছিল- আসবাবপত্র আমাদের উপর এসে পড়ে। আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি,” সংবাদ সংস্থা এএফপি ৪৭ বছর বয়সী এলাজিগ শহরের বাসিন্দা মেলাহাত কানের উদ্ধৃতি দিয়ে দিয়ে একথা বলে।

ভূমিকম্পটি যে এলাকায় আঘাত হেনেছে তা রাজধানী আঙ্কারা থেকে সাড়ে পাঁচশ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত দুর্গম এবং জনবিরল এলাকা হওয়ার কারণে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে সময় লাগতে পারে।

ওই এলাকায় রাতের তাপমাত্রা নিয়মিতভাবে শূন্য ডিগ্রির নিচে নামায় সেখানে বিছানা, তাঁবু এবং কম্বল পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টাইগ্রিস নদীর উৎপত্তিস্থল হাজার লেকের পাড়ে অবস্থিত সিভরিস একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা যেখানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ বাস করে।