রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। আজ বিকেলে তিন জেলার জেলা প্রশাসকেরা এই নির্দেশনা জারি করেন। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
আজ বিকেল চারটার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদে বার্তায় উল্লেখ করা হয়, অনিবার্য কারণবশত পর্যটকদের ৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। এর আগে ৩ অক্টোবর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের সাজেকে পর্যটকদের না যেতে পরামর্শ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে জারি করা হলো, যখন তিন পার্বত্য জেলায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বৌদ্ধভিক্ষুরা কঠিন চীবরদান উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে কঠিন চীবরদান শুরু হওয়ার কথা ছিল।
নতুন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফের তৎপরতার কারণে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর বান্দরবানের রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় প্রথম পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে রুমা ও থানচি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও রোয়াংছড়িতে বহাল ছিল। এরপর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে দুই দফা সহিংসতার কারণে রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছিল প্রশাসন।
পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা বলেছেন, চলতি মাস থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে হানাহানির ঘটনার পরও বান্দরবানে পর্যটকেরা এসেছেন। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছিল ধীরে ধীরে। চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এমন সময়ে আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো, যখন পর্যটনশিল্প চাঙা হয়ে উঠছিল।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি শহরে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়িতে এক স্কুলশিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর সহিংসতা ঠেকাতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। পরদিন বুধবার বেলা তিনটার দিকে পৌর এলাকা থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়। সহিংস এসব ঘটনার প্রভাবে তিন পার্বত্য জেলার পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এস/ভি নিউজ