তালার শাহাজাতপুরে হোমিও ডাক্তারের ওষুদ সেবনে পলাশ এখন অন্ধ!

42
Social Share

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা: তালার শাহাজাতপুর বাজারের হোমিওপ্যাথি ডাক্তার সুনীল দাশের কাছ থেকে ওষুদ সেবন করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পলাশ খান পল্টু’র দু’চোখ এখন অন্ধ। উত্তর শাহাজাতপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহাদ আলী খানের ছেলে পল্টু অন্ধাবস্থায় বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন। এরআগে একই ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ সেবন করে দক্ষিণ শাহাজাতপুর গ্রামের হরিপদ বাছাড়ের ছেলে সনৎ কুমার বাছাড় মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাগেছে, হোমিও ডাক্তার সুনীল দাশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদকসেবীদের কাছে নেশা জাতীয় হোমিও ওষুদ এবং স্প্রিট বিক্রি করে আসছে। এই স্প্রিট এবং নেশা জাতীয় ওষুদ সেবন করায় সনৎ বাছাড় মারা যান। এছাড়া অতিরিক্ত স্প্রিট ও নেশা জাতীয় হোমিও ওষুদের প্রভাবে পলাশ খান পল্টুর চোখের কর্নিয়ার সাথে শিরা-উপশিরা’র সংযোগ নষ্ট হওয়ায় সে অন্ধত্ব বরন করেছে।
পলাশ খান পল্টুর পারিবারিক সূত্র জানান, গত সোমবার রাতে পল্টু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সে চোখে দেখতে পাচ্ছিল না। তাকে ওই রাতেই তালা হাসপাতালে আনা হয়। পরদিন এখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি অধ্যবদী সেখানে চিকিৎসাধীন। ওষুদের কূ-প্রভাবে পলাশ খান পল্টু পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গেছে বলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস. এম. লিয়াকত হোসেন জানিয়েছেন।
পল্টুর পরিবারের অভিযোগ, হাতুড়ে ডাক্তার সুনীশ দাশের কাছ থেকে নেশা জাতীয় ওষুদ পান করায় পল্টু অন্ধ হয়ে গেছে। এঘটনায় হাতুড়ে ডাক্তার সুনীল দাশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে পল্টুর স্ত্রী ময়না বেগম জানান।
ভুক্তভোগী পলাশ খান পল্টু জানান, ঋনগ্রস্থ হয়ে তিনি দীর্ঘদিন হতাশায় ভূগছিলেন। এজন্য তিনি শাহাজাতপুর বাজারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সুনীল দাশের পরামর্শ মতো অধিক মূল্যে তার কাছ থেকে ওষুদ কিনে সেবন করতেন। নেশা জাতীয় ওই ওষুদ পানে আজ তিনি অন্ধ হয়েছেন বলে জানান।
শাহাজাতপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, হোমিও ডাক্তার সুনীল দাশ দীর্ঘ বছর ধরে এলাকার উঠতি বয়সী যুবকদের কাছে স্প্রিট সহ নেশা জাতীয় নানান ওষুদ বিক্রি করে আসছে। এখান থেকে নেশা জাতীয় ওষুদ সহ স্প্রিট পান করে ইতোপূর্বে সনৎ কুমার মারা যান এবং পল্টু বর্তমানে অন্ধ। এঘটনায় এলাকাবাসী ডাক্তার সুনীল দাশের শাস্তি দাবী করেছেন।
এদিকে, পলাশ খান পল্টু অন্ধ হওয়ায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এরপর থেকে কথিত হোমিও ডাক্তার সুনীল দাশ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।