তথ্য দিয়েছিল বিসিসিআই; তদন্ত করেছে আইসিসি

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দিপক আগরওয়াল নামের এক ভারতীয় বুকি তিনবার যোগাযোগ করেছিল। সে সাকিবের কাছে বিভিন্ন তথ্য চেয়েছিল ফিক্সিংয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য। সাকিব এসব তথ্য না দিলেও আইসিসিকে বিষয়টি গোপন করে গেছেন। দিপক আগরওয়ালের ফোনের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ তিন ম্যাচের একটি যেহেতু আইপিএলের, তাই স্বাভাবিকভাবেই সাকিবের বিরুদ্ধে তদন্তে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আদৌ কোনো ভূমিকা আছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে। এ ব্যাপারে আজ বিবৃতি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

২৬ এপ্রিল ২০১৮। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেন সাকিব। সেই বুকি দিপক আগারওয়াল সাকিবকের কাছে জানতে চান, একজন ক্রিকেটার ওই ম্যাচে খেলছে কিনা। পাশাপাশি দলের ভেতরের খবরও জানতে চান। সাকিবের সঙ্গে বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট নিয়ে কথা বলেন আগারওয়াল। জানতে চান সাকিবের ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত। এই আলোচনার সময়ই সাকিব বলেন, যে তিনি আগে দেখা করতে চান আগারওয়ালের সঙ্গে।

সেদিনের বেশ কিছু বার্তা সাকিব মুছে ফেলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানান, সেগুলো ছিল দলের ভেতরে খবর জানতে চাওয়ার কথা। আইসিসি জানিয়েছে, ওই আলোচনার পরই আগারওয়ালকে নিয়ে সাকিবের ভাবনা হতে থাকে। আগারওয়াল একজন জুয়াড়ি হতে পারেন ভেবেও সাকিবের ধারণা হয়। তবে সেদিনের কথাও সাকিব সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে জানায়নি। বিসিসিআই জানিয়েছেন, সাকিবের বিরুদ্ধে পুরো তদন্তটাই আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) স্বাধীনভাবে করেছে। তবে বিসিসিআই তাদের তথ্য দিয়েছে।

সাকিবের বিরুদ্ধে তদন্তে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কতটা জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন বিভাগের প্রধান অজিত সিং শেখাওয়াত বলেছেন, ‘আইপিএলের যে মৌসুমের ম্যাচ নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, সে মৌসুমের সকল দুর্নীতিবিরোধী বিষয়গুলো আইসিসিই নজরদারি করেছে। কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে আইসিসিই কাজ করেছে, তদন্ত করেছে। এর সঙ্গে বিসিসিআইয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে হ্যাঁ, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করেছি আইসিসিকে, কিন্তু এ বিষয়ে পুরো তদন্তটাই আইসিসি করেছে। বিসিসিআই না।’

আইপিএলের ওই ‘বিখ্যাত’ ম্যাচে ২৯ বলে ২৮ রান করেছিলেন সাকিব। বল হাতে ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ময়ঙ্ক আগরওয়াল ও অ্যারন ফিঞ্চের দুটি উইকেট তুলে নেন তিনি। এ থেকে তার পারফর্মেন্সে ফিক্সিংয়ের কোনো প্রভাব ছিল না বলে প্রতীয়মান হয়েছে আইসিসির কাছে। তাই সাকিবের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনা হয়নি। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ শাস্তি থেকেও পার পেয়েছেন তিনি। আইসিসির কাছে তথ্য গোপন না করলেও দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তিও তাকে পেতে হতো না।