ঢাকা মেট্রোরেল শুরু করার আগে

52
Social Share

কয়েক বছর আগে ঢাকা মেট্রোরেলের কম্পিউটার মডেলের একটি ভিডিও টিভিতে বা অনলাইনে দেখানো হয়েছিল। সেই ভিডিও দেখে রাজধানীবাসী নতুন এক ধরনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ‘আসিতেছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল’ যা আপনাকে সময়মতো সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর রাস্তায় যানজটে বসে বিরক্তিকর অপেক্ষা নয়। মেট্রোরেলে চড়ে নিমেষেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবেন। সামগ্রিকভাবে এমআরটি ব্যবস্থা ট্রাফিক যানজট কমিয়ে ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করে তুলবে এবং শহরটিকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করবে।

পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নাধীন র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইনের মধ্যে এমআরটি লাইন ৬-এর দুর্দান্ত অগ্রগতি হয়েছে, যা আমাদের স্বাধীনতা উদযাপনের সুবর্ণজয়ন্তীর অংশ হিসাবে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে। করোনা মানুষের জীবনের মতো মেট্রোরেলের কিছু ওলটপালট করে দিলেও আশার কথা যে, মেট্রোরেলের বগি এ বছরের এপ্রিলে দেশে আসবে। তবে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়বে। ২০৩০ সালে ৪৮ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশের শহরে বাস করবে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মেট্রোরেলের দ্রুত ও ভালো অভিগম্যতার জন্য যাত্রীবান্ধব স্টেশনগুলি বহুতল পার্কিং বিল্ডিং হওয়া দরকার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে দেখতে পাই, উল্লেখযোগ্যভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। সীমিত পার্কিংয়ের অবস্থান কোথায় সেটাও অজানা। সে কারণে ঢাকার অনেক রাস্তায় পার্কিং করার প্রবণতা লক্ষণীয়। মেট্রোরেল যেহেতু বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করবে, সেহেতু মেট্রোলাইন ধরে বেশ কয়েকটি মাল্টি-স্টোরি গাড়ি পার্ক নির্মাণ প্রয়োজন। পার্কিং থাকলে ট্রেনের যাত্রীদের গাড়ি চালানোর পরিবর্তে ট্রেনে যেতে উত্সাহিত করবে, এভাবে রাস্তাগুলিতে চাপ কমবে।

সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা হিসাবে কেবল গাড়ি পার্কিং নয়, সাইকেলগুলি সহজেই স্বল্প দূরত্বে পৌঁছানোর পক্ষে সবচেয়ে সুবিধাজনক। সাইকেল রাইডাররা একবার মেট্রোরেল স্টেশনে উঠলে তাদের স্টেশনে ছেড়ে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত। ঢাকা এমআরটি কর্তৃপক্ষ নিরাপদে সাইকেল পার্কিংয়ের সুবিধা রাখলে বাইসাইকেল স্টেশনে রেখে ট্রেন ধরতে সহজ হবে। এতে করে ট্রানজিট স্টেশন হিসাবে মেট্রোরেলের ক্যাচমেন্ট অঞ্চলটি আরও প্রসার হতে পারে

ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহরে প্রচুর পথচারী ফুটপাত ব্যবহার করেন। তবে ফুটপাতগুলি পথচারীবান্ধব নয়। পথচারীরা রাস্তা পারাপারের সময় কখনো কখনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন। সে কারণে স্কাইওয়াক ব্যবস্থা সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করতে পারে। স্কাইওয়ে নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস ট্রাফিক এবং আবহাওয়ার প্রভাব ছাড়াই লিঙ্কওয়ে করা হলে পথচারীরা নিরাপদে মেট্রো স্টেশনে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন।

ব্যস্ত অঞ্চলে পথচারীদের সড়কপথ থেকে পৃথক করতে পরিবেশবান্ধব ওভারহেড স্কাইওয়াক তৈরি করা উচিত। উদাহরণ হিসাবে বিমানবন্দর, ফার্মগেট বা বড় শপিংমলকে সংযোগ করে স্কাইওয়াকটি তৈরি হলে বাংলাদেশ নতুন স্মার্ট সিটির জন্য একটি পরিচয় বহন করবে। তাছাড়া উত্তরায় মেট্রোরেল আর স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত রাস্তা নেই, যা আছে তাও অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা। ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে রাজউকের উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়তই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁরা ইচ্ছা করলেও উত্তরা খাল পার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারেন না। মেট্রোরেলের স্টেশনে সময়মতো পৌঁছে যাওয়ার জন্য রাস্তা সংস্কার খুব দরকার।

পরিশেষে, ঢাকা গণ র‌্যাপিড ট্রানজিট কর্তৃপক্ষকে মেট্রোরেল নির্মাণের পাশাপাশি উল্লেখিত অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণের ব্যাপারে অনুরোধ জানাই।