ঢাকায় টিকফার পঞ্চম বৈঠক ৫ মার্চ

ঢাকায় ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা)-এর পঞ্চম বৈঠক। এ লক্ষ্যে বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এবারের টিকফা বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, পণ্যের ন্যায্যমূল্য ও বাজার সুবিধা, কাস্টমস অ্যান্ড সম্পূরক শুল্ক ডিউটিসহ সমুদ্র সম্পদ আহরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ।

বাণিজ্যমন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সেলের মহাপরিচালক মো. কামাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এ বছর ঢাকায় বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু বড়দিন ও নববর্ষ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র এক দফা সময় পিছিয়ে দেয়। এবার তাদের আগ্রহে নতুন সময় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ মার্চ টিকফা ফোরামের বৈঠকের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তবে ফোরামের বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভার পড়ার আশঙ্কা নেই। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।

‘টিকফার মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো। বৈঠক সামনে রেখে বাংলাদেশের এজেন্ডা যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। তারাও আমাদের কাছে এজেন্ডা পাঠিয়েছে। তাদের এজেন্ডা নিয়ে আগামী সপ্তাহে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আলোচনা সাপেক্ষে আমরা টিকফা বৈঠকে কী কী বিষয়ে সাহায্য সহযোগিতা চাইবো বা আলোচনা করবো সেসব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। ইতোপূর্বে আমাদের কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেগুলোর বিষয়েও আলোচনা হবে বৈঠকে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। টিকফা বৈঠকে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হবে। বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। আগামী বৈঠকেই এ বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তি (টিকফা) কার্যকর করতে এবারের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে মার্কিন ট্রেড প্রতিনিধি দল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসা সহজীকরণ, মার্কেট এক্সেস, ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ, মেধাস্বত্ব, ডিজিটাল ইকোনমি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারী ক্রয়ে স্বচ্ছতা এবং শ্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে নার্স, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য সেবা খাতে মোড-৪ এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ সহজীকরণে অনুরোধ জানানো হবে। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে বিরাজমান বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যাদি তুলে ধরে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্যসংস্থা (ডব্লিউটিও) সেলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা টিকফা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি যা দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য সহযোগিতা, সম্প্রসারণ বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ বাণিজ্য বাধাসমূহ নিয়ে আলোচনার উত্তম ফোরাম। যদিও পাঁচ বছর আগে করা এ ফোরামের অগ্রগতি নিয়ে হতাশাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর টিকফার বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারিত করা হয়েছিল। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ‘ক্রিসমাস’ এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে টিকফার পঞ্চম বৈঠক দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ফোরামের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত না হলেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।